মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বরাবরই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য চর্চায় থাকেন। এবার তিনি দাবি করলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘প্রতি বছর’ নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। কারণ তারা ‘সঠিক নিয়মে’ যুদ্ধ করে। তবে মজার ব্যাপার হলো—এই কথা বলার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেই তিনি গর্ব করে জানান, তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সহিংসতা’ ঘটাতে পুরোপুরি সক্ষম।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ইরান ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে এক সাংবাদিক হেগসেথকে জিজ্ঞেস করেন, ‘যুদ্ধ মন্ত্রণালয়’-এর নাম বদলে ‘শান্তি মন্ত্রণালয়’ করার কথা ভাবছেন কি না? উত্তরে হেগসেথ বলেন, ‘শক্তির মাধ্যমেই শান্তি আনা যায়’, তাই এটাকে ‘যুদ্ধ’ মন্ত্রণালয়ই বলা হয়।

এরপর তিনি আরও বলেন, ‘যখন সঠিক পদ্ধতিতে যুদ্ধ করা হয়, তখন লক্ষ্য থাকে—অন্য পাশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সেই প্রতিষ্ঠানটি, যার প্রতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত, সেটি হলো মার্কিন সামরিক বাহিনী। কারণ আমরা শুধু আমাদের দেশের নয়, বরং পৃথিবীর অনেক মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিই।’

কিন্তু তার এই বক্তব্যের মাত্র এক মিনিট আগেই হেগসেথ বলেন, ‘আমি চাই আমার সেনারা সর্বোচ্চ সহিংসতা আনতে সক্ষম হোক। আমাদের নিয়মের ভিতরে থেকে শত্রুর বিরুদ্ধে সব ক্ষমতা দিয়ে সর্বোচ্চ সহিংসতা নিয়ে আসতে পারুক। কারণ যুদ্ধ স্বভাবতই সহিংস। আমি চাই আমাদের লোকেরা ঘরে ফিরুক, আর তাদের লোকেরা না ফিরুক।’

ঠিক সেই সময়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ৭০০ জনই বেসামরিক নাগরিক, আরও আছেন শত শত শিশু। অন্যদিকে লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার মানুষের।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বহু বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যে বলেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বহু যুদ্ধাপরাধ করেছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আছে—তিনি ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও হেগসেথ যুদ্ধকালে বেসামরিক মানুষ মারা ঠেকাতে চালু থাকা নিয়মগুলোকে ‘বোকামির আইন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এবার সেই নেতাই দাবি করলেন, মার্কিন সেনাদের নোবেল প্রাপ্য।

 

news