মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ফের উৎকণ্ঠা। যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে গোলমাল। দুই দেশের কূটনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের পুরনো ছবিটাই যেন আবার ভেসে উঠল।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরাসরি শান্তি বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। কিন্তু সমস্যা হলো, একই সময়ে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না তিনি। একই কথা বলছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের ঘনিষ্ঠ নুরনিউজ সংস্থাও।

এখন প্রশ্ন হলো, সত্যিটা কী? আলোচনা নিয়ে এই ধোঁয়াশা কিন্তু নতুন কিছু নয়। বারবার এ ধরনের পরস্পরবিরোধী তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা কূটনীতিকে আরও জটিল করে দিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিভ্রান্তি থাকার মানে এই নয় যে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। বরং অন্য কোনো চ্যানেলে গোপনে আলোচনা চলতে পারে।

এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। গত মার্চের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হয়েছে। কিন্তু তেহরান তখনি তা অস্বীকার করে বসে। পরে অবশ্য ইরানের এক সূত্র সিএনএনকে জানায়, দুপক্ষের মধ্যে কিছু ‘যোগাযোগ’ হয়েছিল আর ইরান ‘উপযুক্ত’ প্রস্তাব শুনতে আগ্রহী।

এরপর এপ্রিলের শুরুতেই পাকিস্তানে জমে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। কিন্তু কোনো চুক্তি হয়নি সেখানে। তার কয়েক দিন পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসলামাবাদে আর কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। অথচ কিছু পাকিস্তানি সূত্র ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে তখনও পরবর্তী বৈঠকের গুঞ্জন ছিল।

সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের সম্ভাব্য সংলাপের চারপাশে ধোঁয়াশা কাটছেই না। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ তো নয়ই, বরং পর্দার আড়ালে কিছু একটা চলছে।

 

news