মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই বড় ঘোষণা করে বসলেন। তিনি বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ! শুক্রবার কংগ্রেসকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এখন আর নেই।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা আসলে কৌশলের ফাঁদ। ওয়াশিংটন যেখানে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েই যাচ্ছে, সেখানে যুদ্ধ শেষের কথা বলে আসলে কংগ্রেসের সময়সীমা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে তারা।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এই কৌশল? আসলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেস ১ মে তারিখ বেঁধে দিয়েছিল। আর হোয়াইট হাউস সেই আইনি সময়সীমা এড়াতেই এই পথ বেছে নিয়েছে। তবে মজার ব্যাপার হলো, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। আর ইরানকে বড় হুমকি হিসেবেই দেখানো হচ্ছে।

১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন অনুযায়ী, ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুদ্ধবিরতি হয়ে যাওয়ায় এই হিসাব আর খাটে না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথও একই কথা বলেছেন।

অবশ্য ডেমোক্র্যাটরা এতে চটেছেন। তাদের অভিযোগ, আইন ভঙ্গ করা হচ্ছে। সিনেটররা বলছেন, বোমাবর্ষণ কমলেও নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও অবরোধ তো এখনো আছে, তাহলে যুদ্ধ শেষ হলো কী করে? এমনকি রিপাবলিকান শিবিরেও দেখা দিয়েছে বিভাজন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পুরো ঘটনা ওয়াশিংটন আর কংগ্রেসের মধ্যে নতুন সাংবিধানিক সংঘাত তৈরি করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন জাগছে, ট্রাম্প প্রশাসন শান্তির নামে কেন ইরানের ওপর চাপ ও সেনা মোতায়েন ধরে রাখল? কারণ শান্তির ঘোষণা বাস্তবে কিছুই বদলায়নি। বরং মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে।

 

news