ইরানে সরকারি নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে কি থেমেছে ইরানিরা? একদম না! গোপনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ডিভাইস ঢুকছে দেশের ভেতরে। আর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ পেতেই শুরু হয়েছে নতুন করে চাঞ্চল্য।
প্রবাসী ইরানিদের একটি গোপন নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে। তারাই দেশটিতে যোগাযোগ সচল রাখতে এই ডিভাইস পৌঁছে দিচ্ছে।
নিরাপত্তার কারণে নাম গোপন রেখে ‘সাহান্দ’ নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১২টি টার্মিনাল ইরানে পাঠানো হয়েছে। আর পাঠানোর চেষ্টা চলছে আরও। তাঁর ভাষায়, একজন মানুষও যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে, সেটাই বড় সাফল্য।
কেন এই অবস্থা? গত ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট বন্ধ। এর আগেও জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ওই সময় বহু মানুষ নিহত ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল।
এই স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কিন্তু দারুণ কাজের। ব্যবহারকারীরা সরাসরি মহাকাশের সংযোগ ধরে বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারেন। ফলে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি উপেক্ষা করে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে।
ইরান সরকার ইতিমধ্যে এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করেছে। তবুও চাহিদা বাড়ছে কমছে না। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে দেশে কয়েক হাজারের বেশি স্যাটেলাইট টার্মিনাল সক্রিয় রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও ইরানিরা বিকল্প পথ খুঁজে নিচ্ছে — কেউ তাদের থামাতে পারছে না।
Iran satellite internet smuggled, Iran internet shutdown 2026, covert terminal Iran, Starlink Iran制裁, Iranian diaspora network, US Israel Iran attack, Iran protests internet
