ন্যাটো, অর্থাৎ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা, তার তৃতীয় যুগে প্রবেশ করেছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সামরিক জোটের মূল উদ্দেশ্য ছিল কমিউনিজমের বিস্তার রোধ এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক শক্তির মোকাবিলা করা। তখন এটি ছিল একটি প্রতিরক্ষামূলক জোট।

কিন্তু শীতল যুদ্ধের পর, যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে, তখন ন্যাটো তার মূল মিশন শেষ হওয়া সত্ত্বেও বিলুপ্ত হয়নি; বরং এটি ইউরোপের একমাত্র নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। গত কয়েক দশকে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপের অনেক সোভিয়েত স্যাটেলাইট দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে রাশিয়ার উদ্বেগই বর্তমান যুদ্ধে প্রধান কারণ।

এই যুদ্ধ এখন পাঁচ বছর অতিক্রম করেছে এবং এতে ন্যাটো একটি নতুন প্রাণ পেয়েছে। রাশিয়া আবার শত্রু হিসেবে দাঁড়িয়েছে, আর ন্যাটো ইউক্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের লক্ষ্য স্পষ্ট: রাশিয়াকে 'কৌশলগতভাবে পরাজিত' করা।

২০২৫ সাল থেকে ন্যাটো’র অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন শুরু হয়েছে, যেখানে ইউরোপীয় সদস্য দেশগুলোকে রাশিয়ার মোকাবিলায় আরও বেশি অর্থ এবং সামরিক দায়িত্ব নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা, যারা আগে প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধিতে অনীহা প্রকাশ করতেন, এখন যুদ্ধের ঝুঁকি স্বীকার করে সামরিক শক্তি বাড়াতে আগ্রহী। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা, ইউরোপীয় ঐক্যের স্থায়িত্ব এবং রাজনৈতিক সুবিধা।

মস্কোর দৃষ্টিতে, ন্যাটো ৩.০ যুগটি রাশিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি। এখন আর এটি শুধুমাত্র আমেরিকার ইউরোপীয় উপস্থিতি নয়, বরং ইউরোপ নিজেই রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কৌশল এখন প্রতিরোধ নয়, বরং সম্পূর্ণ পরাজয়ের লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়াকে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখছেন। তবে মস্কো বিশ্বাস করে যে রাশিয়া পরাজয় মেনে নেবে না এবং তাদের অস্ত্রভাণ্ডার, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে, ব্যবহার করতে পারে। রাশিয়ার নেতৃত্ব এবং জনগণ ন্যাটো’র কাছে আত্মসমর্পণ করবে না বলে তারা দৃঢ়।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের আধুনিক কৌশলগত সংস্কৃতির অভাব এবং গভীর রুশোফোবিয়া তাদের রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাতের পথে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই সংঘাতের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকরা। একজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, 'নতুন ন্যাটো কৌশল শুধু প্রতিরোধ নয়, এটি রাশিয়াকে পরাজিত করার পরিকল্পনা।

ইউরোপ এবং আমেরিকার এই সামরিক প্যাকেজ রাশিয়ার জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।' এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে ইউরোপ-রাশিয়া সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

Walton Ads