ইরানের ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানার পর কুয়েতে মার্কিন HIMARS ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস হয়ে তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলার এই ঘটনা কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু ছিল।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুসারে, কুয়েতে কয়েকটি HIMARS সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে এবং তিন মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করেছে। একই সঙ্গে, মার্কিন সাংবাদিক বারাক রাভিদের তথ্য অনুসারে, ওয়াশিংটন হরমুজ স্রোতের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা সিস্টেম ও ইরানি নৌবাহিনীর ছোট নৌকাগুলোর ওপর কয়েকটি হামলা চালিয়েছে।
ইরানের প্রেস টিভি কেশম দ্বীপের আশেপাশে একাধিক বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ধোঁয়ার স্তূপ দেখা গেছে। কেশম দ্বীপ পার্সিয়ান উপসাগরে ইরানের বৃহত্তম দ্বীপ এবং দেশের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ও রাডার সিস্টেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ফার্সের আরও তথ্য মতে, ইরানি বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে HIMARS লঞ্চার ধ্বংস করেছে, যা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।
একই দিনে, কুয়েতের আল মিনা এলাকায় তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় এবং মার্কিন ATACMS ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেমের একটি সাইট লক্ষ্য করা হয়। এছাড়াও বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও ওমানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের সামরিক বাহিনী দেশটিতে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে, তবে HIMARS ধ্বংস বা মার্কিন হতাহতের বিষয়ে কিছু বলেনি এবং হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেনি।
কুয়েতের উত্তর সীমান্তে তিনটি স্থলবন্দর ও একটি অফশোর ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে ড্রোন আঘাত হানে, যেখান থেকে একজন কর্মী আহত হয়। ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনী এই মাসের শুরুতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ধ্বসে পরস্পরের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইরানকে হরমুজ স্রোতে জাহাজে আঘাতের অভিযোগ করেছে, আর তেহরান দাবি করেছে কিছু জাহাজ নির্দেশনা অমান্য করেছে। তেহরান স্রোত বন্ধ ঘোষণা করলেও মার্কিন কর্মকর্তারা বাণিজ্যিক চলাচল অব্যাহত আছে বলে বলছেন।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করেছে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। হরমুজ স্রোত বিশ্বের প্রধান তেল পরিবহনের পথ, যেখানে সামরিক সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি, সামরিক হুমকি এবং আঞ্চলিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে এই ঘটনাটি, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে। তাই এই খবর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।