যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাভানা সিনড্রোম’ নামে পরিচিত রহস্যময় স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান করেছে পেন্টাগন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আরটি (RT) জানিয়েছে, পেন্টাগনের ওই ঘোষণা শুক্রবার প্রকাশিত হয় যেখানে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের হাভানা আইন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মরত ওই রোগীদের প্রথমবারের মতো আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
‘হাভানা সিনড্রোম’ প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মীদের মধ্যে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, শ্রবণশক্তি হ্রাস, স্মৃতিভ্রংশ এবং মনোযোগের সমস্যার মতো লক্ষণ প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যেমন চীন, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় ১,৫০০ এর বেশি এই ধরনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও বহু বছর তদন্তের পরেও এর সঠিক কারণ এখনো নির্ণীত হয়নি। বিজ্ঞানীরা পরিবেশগত কারণ এবং মানসিক চাপকে প্রধানত এই রোগের পেছনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন।
কিছু সময় ধরে নানা গুজব চলে যে এটি একটি অজানা মাইক্রোওয়েভ বা ইলেকট্রনিক অস্ত্রের আঘাত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের একটি প্রতিবেদন গত বছর বলেছে, অধিকাংশ গোয়েন্দা সংস্থা মনে করে বিদেশি কোনো শত্রুর তৎপরতা এই রোগের জন্য দায়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
২০২৪ সালে ‘দ্য ইনসাইডার’, ‘ডার স্পিগেল’ ও ‘সিবিএস ৬০ মিনিটস’ একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যা রাশিয়ার একটি গোয়েন্দা ইউনিটের সঙ্গে এই স্বাস্থ্য সমস্যার সংযোগ স্থাপন করে। তবে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ এই প্রতিবেদনের কঠোরভাবে বিরোধিতা করে এটিকে ‘‘মাধ্যমিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এই খবরটি কেন গুরুত্বপূর্ণ
পেন্টাগনের এই প্রথম ক্ষতিপূরণ প্রদানের পদক্ষেপটি ‘হাভানা সিনড্রোম’ আক্রান্তদের প্রতি সরকারি সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত অজানা রহস্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। এটি এই রোগের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে এবং আক্রান্তদের পরিচর্যা ও গবেষণার জন্য নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। একই সঙ্গে, এই ঘটনা বিশ্ব রাজনীতির জটিলতায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার গুরুত্বকেও তুলে ধরে, যেখানে কোনো অজানা স্বাস্থ্যঝুঁকি কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রতিকূল প্রভাব ফেলতে পারে।