মশকরা করছেন না পুতিন’, পরমাণু হামলার আশঙ্কা উসকে মন্তব্য বাইডেনের

 ছ’মাসেরও বেশিদিন ধরে প্রবল যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। শুরুর দিকে লড়াইয়ের ময়দানে রুশ ফৌজ সাফল্য পেলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা ভারী হয়েছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর। ইতিমধ্যে হানাদারদের হঠিয়ে খারকভ অঞ্চলের প্রায় গোটাটাই ফের দখল করে নিয়েছে তারা। অনেকেই বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউক্রেনে পারমাণবিক এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া। সেই আশঙ্কা আরও উসকে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও জানিয়েছেন যে তিনিও মনে করেন রাশিয়া আণবিক হামলা চলতে পারে।

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনে মিডিয়া ব্যারন রুপার্ট মারডকের পুত্র জেমস মারডকের বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাইডেন। সেখানে কথাপ্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইউক্রেনে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তিনি মোটেও মশকরা করছেন না।” আমেরিকা বনাম সোভিয়েত ইউনিয়নের ঠান্ডা লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে বাইডেন আরও বলেন, “১৯৬২ সালে কেনেডি এবং কিউবার মিসাইল সংকটের পর সেই অর্থে আমরা প্রলয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে দেখিনি। পরিস্থিতি যদি এভাবেই খারাপের দিকে এগোয় তাহলে কিউবার সংকটের পর ফের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হবে।” রুশ প্রেসিডেন্টের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তাঁকে (পুতিন) খুব ভাল করে চিনি। তাঁর সেনাবাহিনী প্রত্যাশা মতো কাজ করতে পারছে না। তাই ইউক্রেনে আণবিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে তিনি মোটেও মশকরা করছেন না।”


উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে (Ukraine) আণবিক এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার না করার জন্য পুতিনকে অনুরোধ করেছিলেন বাইডেন। এর অন্যথায় আমেরিকা এমন কিছু ‘পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য হবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেন না, এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছিলেন, “করবেন না, করবেন না, করবেন না। (আণবিক বা রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার) যুদ্ধের অভিমুখ সম্পূর্ণ পালটে দেবে। পরিস্থিতি এমন হবে যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কেউ কখনও দেখেনি। বিশ্বমঞ্চে তারা (রাশিয়া) আরও একঘরে হয়ে যাবে। রাশিয়া যে পদক্ষেপ করবে (ইউক্রেনে) সেই মতোই তাদের জবাব দেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সূচনাতেই পুতিন (Vladimir Putin) জানিয়েছিলেন, পশ্চিমী বিশ্বের তরফে অযাচিত হস্তক্ষেপ করা হলে কিংবা কোনও দেশের কার্যকলাপের জন্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে রাশিয়া এমন জবাব দেবে, বিশ্ব ইতিহাসে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। এদিকে, বাইডেনের মন্তব্যের পর ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ মন্তব্য করেছিলেন, “রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নীতি পড়ুন সেখানে সব লেখা আছে।” বলে রাখা ভাল, রুশ আণবিক নীতিতে বলা হয়েছে, দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে, বিদেশি শত্রু গণবিধ্বংসী হাতিয়ার প্রয়োগ করলেও পালটা পরমাণু হামলা চালানো যেতে পারে।


সংবাদ প্রতিদিন/এনবিএস/২০২২/একে

news