ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ গোপনে পেন্টাগনকে জানিয়েছেন, ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় বর্তমান নৌ-সামরিক শক্তি পর্যাপ্ত নয় এবং একটি অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার না পাওয়া গেলে তাকে ইসরায়েল রক্ষা এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে ।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল গ্রিনকেভিচ পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে লেখা এক বার্তায় এই সতর্কতা দেন । তিনি উল্লেখ করেন, ভূমধ্যসাগরের পূর্বাংশে মোতায়েন মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে ইসরায়েলকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, যুদ্ধের চাপে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সংকট এবং কৌশলগত অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে । স্পেনের রোটা ঘাঁটিতে মোতায়েন পাঁচটি ডেস্ট্রয়ারের মধ্যে বর্তমানে মাত্র দুটি সাগরে সক্রিয় রয়েছে, অন্যগুলো মেরামত বা সংরক্ষিত অবস্থায় আছে ।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সতর্কতা কেবল সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতিই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির গভীরতর সংকটকে ইঙ্গিত করে । সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তার মোট থ্যাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং নৌবাহিনীর ১০০টির বেশি এসএম-৩ ও এসএম-৬ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে । এই অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলো তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল । যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পুনরায় দৈনন্দিন হামলার ঘটনা বাড়ায় এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ।

কেন এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের শীর্ষ কর্মকর্তার এই সতর্কতা কেবল একটি অঞ্চলের সামরিক ঘাটতির সমস্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রশান্ত মহাসাগরে চীনকে মোকাবিলা, ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের আশ্বস্ত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে তেল রুট সুরক্ষা—এই তিনটি ফ্রন্টে একই সাথে সামরিক শক্তি প্রয়োগের নীতি যে বাস্তবে টেকসই নয়, তা এই বার্তায় স্পষ্ট । ইরানের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার সাথে সাথে হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে, যা মার্কিন প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । যুদ্ধে অন্তত ১৮ মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হওয়ায় এবং যুদ্ধখাতে প্রায় সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হওয়ায় মার্কিন জনমনে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে । এই পরিস্থিতিতে জেনারেল গ্রিনকেভিচের সতর্কবাণী মার্কিন নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে: বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে ।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, ডন, ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

Walton Ads