ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের ফেলো ও সৌদি বিশ্লেষক আবদুল আজিজ আলঘাশিয়ান জানিয়েছেন, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে জোর দিয়েছেন ।

আলঘাশিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’ তাঁর মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাত ঠেকাতেই সৌদি আরব এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। সৌদি নেতৃত্ব পুরো অঞ্চলকে বোঝাতে চেয়েছে যে তারা পরিস্থিতির আরও অবনতি নয়, বরং উত্তেজনা প্রশমনের পক্ষে ।

সৌদি বিশ্লেষক আরও বলেন, ক্রাউন প্রিন্স মনে করছেন যে উত্তেজনা আবারও বাড়তে পারে। তবে তারা সেই পরিস্থিতিতে ‘ব্রেক’ টানতে চান, যাতে সৌদি আরবের নিজস্ব নিরাপত্তা এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় । একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান যে প্রায়ই পরিবর্তিত হয়, সে বিষয়ে সৌদি আরব অবগত—তবু তাঁর ব্যক্তিগত মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানকে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন আলঘাশিয়ান ।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। গত জানুয়ারিতে ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে এই উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই পরিস্থিতিতে তেল সমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।

ঘটনার পটভূমি

সৌদি আরব ঐতিহাসিকভাবে ইরানকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে থাকে। ইয়েমেন, সিরিয়া ও লেবাননে এই দুই শক্তির মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব চীন ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে হাঁটছে। ২০২৩ সালের মার্চে বেইজিং চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব নিজেদের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'-এর অংশ হিসেবে অঞ্চলে শান্তি চায়, কারণ যেকোনো বড় সংঘাত তাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাহত করতে পারে। এ কারণেই রিয়াদ এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছে—যদিও সরাসরি মধ্যস্থতার ভূমিকা নিতে তারা এখনও রাজি হয়নি ।

Walton Ads