পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন । রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন এই প্রদেশের সোয়াত উপত্যকার কাবাল শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে । এ ঘটনায় আরও অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ।
সোয়াত জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (ডিপিও) উমর খান জানান, পুলিশ স্টেশনের প্রবেশমুখে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীরা এক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করলে তিনি নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক ঘটান । ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে ।
এই বিস্ফোরণটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন পাশের একটি মোড়ে কয়েকশ মানুষ এলাকায় ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সমাবেশ করছিলেন । সমাবেশের শেষ বক্তা বক্তব্য দেওয়ার সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে, যা সমাবেশকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে । আহতদের কাছের শহর সাইদু শরিফের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন ।
ঘটনার পটভূমি
সোয়াত উপত্যকা একসময় পাকিস্তানি তালেবানের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৯ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে তালেবানদের সেখান থেকে তাড়ানো হয়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলে আবারও সশস্ত্র হামলা বেড়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তালেবান ও অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা বাড়ছে । বিক্ষোভকারীরা মূলত এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিবাদ করতেই সমবেত হয়েছিলেন। কাবালের এই আত্মঘাতী হামলা নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতির ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে যখন সরকার পুলিশ স্টেশন ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলছে ।