সৌদি আরবের নাজরান অঞ্চলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আল-উখদুদ প্রত্নস্থলে পর্যটকদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে । কোরআনে বর্ণিত এই প্রাচীন শহরটি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৭ হাজার ৭৪৪ জন দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করেছে, যা দেশটির অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে এর গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে । সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গড়ে ওঠা আল-উখদুদ প্রাচীন ধূপ বাণিজ্যপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। এখানে প্রায় ২৩৫ মিটার দীর্ঘ ও ২২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুরক্ষিত নগরপ্রাচীরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, যা একসময়ের সমৃদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। খোদাই করা পাথরের দুই থেকে চার মিটার উঁচু ভিত্তির ওপর নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনার নিদর্শনও এখনো টিকে আছে ।

দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সৌদি হেরিটেজ কমিশন এখানে একটি আধুনিক ভিজিটর সেন্টার নির্মাণ করেছে। ৩০০ বর্গমিটার আয়তনের এই ভবনের পাশাপাশি রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ বর্গমিটারের খোলা প্রাঙ্গণ। কেন্দ্রটিতে ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী, ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল, শিশুদের জন্য বিশেষ গ্যালারি, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঘুরে দেখার মাঠপর্যায়ের ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে ।

ঘটনার পটভূমি

আল-উখদুদের গুরুত্ব শুধু ঐতিহাসিক নয়, ধর্মীয় দিক থেকেও অপরিসীম। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-বুরুজে ‘আসহাবুল উখদুদ’ (পরিখার অধিবাসীদের) কথা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বিশ্বাসীদের ওপর অত্যাচারের কাহিনী উল্লেখ আছে । ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত এই স্থানটি মুসলিম পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে দেশটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আল-উখদুদসহ বিভিন্ন প্রত্নস্থলের উন্নয়নে কাজ করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ, যা দেশের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের অংশ হিসেবে পর্যটন খাতকে শক্তিশালী করছে। সম্প্রতি সৌদি আরব পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করায় বিদেশি দর্শনার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে, যা এই ঐতিহাসিক স্থানটির জনপ্রিয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Walton Ads