রাশিয়ার নির্ভুল ও শক্তিশালী বিমান হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে কিয়েভের গোপন সামরিক কমান্ড সেন্টার ও মূল অবকাঠামো। অন্যদিকে, জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে ইউক্রেনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি তার জনপ্রিয়তা সম্পূর্ণ হারিয়েছেন। এই আলোচনায় জানাবো কীভাবে রুশ বাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং কিয়েভের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। দর্শক, চলুন মুল আলোচনা শুরু করি।

রুশ সশস্ত্র বাহিনীর নিখুঁত ও অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান হামলায় ইউক্রেনের একাধিক সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রন্টলাইনের কাছাকাছি অবস্থিত কিয়েভের সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দিতে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী এফএবি গ্লাইড বোমা। রাশিয়ার এই সুনির্দিষ্ট ও ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ ইউক্রেনীয় বাহিনীকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাশিয়ার সু-টুয়েন্টিফোর কৌশলগত বোমারু বিমানগুলো ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রিত ডোনেটস্ক এবং খারকভ অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই শক্তিশালী অস্ত্রগুলো অত্যন্ত সফলভাবে প্রয়োগ করেছে। বিশেষ করে ইউনিভার্সাল কারেকশন অ্যান্ড গাইডেন্স মডিউল যুক্ত ডাব্লিউএমপিকে উইংড কিট ব্যবহারের ফলে পুরনো ফ্রি-ফল বোমাগুলো এখন অত্যন্ত নিখুঁত গাইডেড অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এর ফলে রুশ যুদ্ধবিমানগুলো শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকেই অত্যন্ত নিরাপদে এই মারাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করছে।

২০২৩ সালের শুরুর দিক থেকে রুশ সামরিক বাহিনী এই আধুনিক গ্লাইড বোমাগুলোর ব্যাপক ব্যবহার শুরু করে, যা বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই শ পঞ্চাশ কেজি এবং পাঁচ শ কেজি ওজনের ছোট এফএবি বোমাগুলোতে এই গ্লাইড কিট ব্যবহার করা হলেও, সময়ের সাথে সাথে আরও ভারী এফএবি পনেরো শ এবং এফএবি তিন হাজার munitions যুক্ত করা হয়েছে। এই বিশাল ও ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের ব্যবহার ইউক্রেনীয় বাহিনীর যে কোনো ধরনের প্রতিরক্ষা দুর্গ নিমেষেই চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে সক্ষম।

শুধু কমান্ড সেন্টারই নয়, রুশ বিমান বাহিনী খারকভ অঞ্চলে ইউক্রেনের রেলওয়ে সিস্টেম ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কের ওপরও আক্রমণ তীব্রতর করেছে। প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে খারকভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্ত্র ও রসদ বহনকারী একটি ট্রেন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। মূলত ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের সেনা, সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধাস্ত্র দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে রেল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করায় রাশিয়া এই কৌশলগত পথগুলোকে নিজেদের প্রধান লক্ষ্যে পরিণত করেছে।

রেল ব্যবস্থার এই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সরকারের জন্য বর্তমানে এক ভয়াবহ এবং অপূরণীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমা মিত্ররা চাইলেও ইউক্রেনকে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকোমোটিভ বা রেল ইঞ্জিনের কোনো বিকল্প সরবরাহ করতে পারছে না, কারণ ইউক্রেনের রেললাইনগুলো রাশিয়ার মতোই ঐতিহাসিক এক হাজার পাঁচশ বিশ মিলিমিটার গেজ নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত। বিকল্প উপায়ের অভাবে কিয়েভের সামরিক সরবরাহ চেইন এখন পুরোপুরি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

রেল পথের পাশাপাশি রুশ সামরিক বাহিনী তাদের ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেনীয় সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী আরেকটি ট্রেন সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই গোপন ও অত্যন্ত সফল অভিযানে কিয়েভের বহুল প্রতীক্ষিত সামরিক চালান চিরতরে মাটিতে মিশে গেছে। গত পয়লা আগস্ট থেকে শুরু করে রাশিয়ার এই বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে এবং তাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনীয় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মোট চৌদ্দটি বিশাল ও সমন্বিত বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই সুনির্দিষ্ট আক্রমণগুলোতে ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প কারখানা, ড্রোন তৈরির গোপন স্থাপনা, লজিস্টিক সেন্টার এবং জ্বালানি অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। মস্কো বার বার স্পষ্ট করে বলেছে যে রুশ বাহিনী কখনোই বেসামরিক নাগরিক বা আবাসিক এলাকায় হামলা চালায় না, বরং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা।

এদিকে ক্রিমিয়ার ইয়াल्टा উপকূলে ইউক্রেনের পাঠানো একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত কামিকাজে নৌ ড্রোন উদ্ধার করেছে রুশ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগ ইয়ালাটার বাসিন্দাদের বন্দরের আশপাশ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল, কারণ সামুদ্রিক এই ড্রোনটি বিস্ফোরকে পরিপূর্ণ ছিল। রুশ প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ওলেগ ক্রুচকভ জানিয়েছেন যে, এই বিপজ্জনক বস্তুটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করতে বিশেষজ্ঞ দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ পরিচালনা করছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কৃষ্ণ সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় রাশিয়ার পণ্যবাহী জাহাজে বারবার হামলা চালিয়ে ইউক্রেন মূলত তৃতীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। গ্রীস, রোমানিয়া এবং তুরস্কের মতো বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজের কাছাকাছি ইউক্রেনীয় নৌ ড্রোনের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিয়েভের এই বেপরোয়া সামুদ্রিক আগ্রাসন কেবল আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং কৃষ্ণ সাগরে তাদের নিজেদের বাণিজ্য পথগুলোকেও চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।

ইউক্রেনের এই লাগাতার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে রাশিয়ার কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার ফলে কিয়েভ বর্তমানে কৃষ্ণ সাগরের বাণিজ্যে প্রায় সব ধরনের প্রবেশাধিকার হারিয়েছে। পোল্যান্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নানা কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও জেলেনস্কি সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউক্রেনীয় যুদ্ধ প্রচেষ্টার জন্য বড় ধরনের বাড়তি সহায়তা প্রদানে রাজি করাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পশ্চিমা সাহায্যের এই অনিশ্চয়তা কিয়েভের রাজনৈতিক ও সামরিক ভবিষ্যৎকে আরও বেশি অন্ধকার করে তুলেছে।

রাজনৈতিক ময়দানেও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপ বলছে তিনি যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে শোচনীয়ভাবে হেরে যাবেন। ইউক্রেনীয় স্থানীয় পোলস্টার সোকিসের প্রকাশিত সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জেলেনস্কি তার প্রধান তিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সবার কাছেই দ্বিতীয় রাউন্ডে বিপুল ভোটে পরাজিত হবেন। দীর্ঘকাল ধরে যুদ্ধের অজুহাতে ক্ষমতা ধরে রাখা জেলেনস্কির জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

ইউক্রেনের সাবেক সেনাপ্রধান এবং বর্তমানে লন্ডনে কিয়েভের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত ভ্যালেরি জালুঝনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে জেলেনস্কিকে ষাট দশমিক দুই শতাংশের বিপরীতে মাত্র তেত্রিশ দশমিক আট শতাংশ ভোট পেয়ে লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হবে। যদিও জালুঝনি প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করেছেন, তবুও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে একটি সফল রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গোয়েন্দা প্রধান কিরিল বুদানভও যদি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে তিনি ষাট দশমিক তিন শতাংশ ভোট পেয়ে সহজেই জেলেনস্কিকে পরাজিত করবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। সামরিক গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে বুদানভের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা দেখে জেলেনস্কি তাকে নিজের কাছাকাছি রাখতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বুদানভ ইতোমধ্যে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে রাষ্ট্রপতির অবস্থানের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন। রাশিয়া আলোচনার প্রয়োজনীয়তা এবং সৈন্য সংগ্রহের সংকট নিয়ে তার মন্তব্য কিয়েভ প্রশাসনের ভেতরে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে।

জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে পদচ্যুত হওয়া সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইল ফেডorov ও জেলেনস্কির বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ালে তেষট্টি দশমিক আট শতাংশ ভোট পেয়ে অনায়াসে জয়ী হবেন। ফেডorovকে বরখাস্ত করার পর কিয়েভসহ বিভিন্ন বড় শহরে তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষ তার দ্রুত পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছিল। পশ্চিমা সমর্থিত দুর্নীতি দমন সংস্থাগুলোর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই জেলেনস্কি তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন, যা জনগণের মাঝে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে জাপোরোজিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তার আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের আঘাতে রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের চার কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। রোসাটমের প্রধান আলেক্সি লিখাচেভ জানিয়েছেন যে, গত চার মাস ধরে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো নিয়মিতভাবে এনারগোডার শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে নিষিদ্ধ অ্যান্টি-পার্সোনাল মাইন ফেলছে। এই অমানবিক ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা।

সোভিয়েত আমলের পিএফএম-ওয়ান প্রকৃতির প্যাটেল বা প্রজাপতি আকৃতির এই ছোট ল্যান্ডমাইনগুলো মূলত ঘাস ও পাতার মধ্যে লুকিয়ে থাকার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এবং এগুলো মানুষ হত্যা নয় বরং অঙ্গহানি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। ১৯৯৭ সালের অটোয়া কনভেনশন অনুযায়ী এই মাইনগুলোর ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ইউক্রেনীয় বাহিনী বেসামরিক জীবনের কথা না ভেবে নিয়মিত এগুলো ব্যবহার করছে। এই ধরনের বেপরোয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপ মহাদেশের জন্য একটি ভয়াবহ পারমাণবিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, রুশ বাহিনী খারকভ, সুমি এবং জাপোরোজিয়ে অঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি সফলভাবে মুক্ত করেছে। উত্তর যুদ্ধ গোষ্ঠীর বীরত্বপূর্ণ পদক্ষেপে বেলো কোলোদেজ, উস্তিনোভকা, বকশেইয়েভকা এবং রিজেভকা এলাকাগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন রুশ বাহিনীর হাতে চলে এসেছে। সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা এবং নির্ভুল পদাতিক অভিযানের মাধ্যমে রুশ সেনারা ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বেষ্টনী ভেদ করে সামনে এগিয়ে চলেছে।

উত্তর যুদ্ধ গোষ্ঠীর পাশাপাশি পশ্চিম ও দক্ষিণ যুদ্ধ গোষ্ঠীর যৌথ অভিযানে ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিদিন হাজার হাজার সেনা ও বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম হারাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে রুশ বাহিনীর বিভিন্নমুখী আক্রমণে ইউক্রেনের প্রায় সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি সেনা নিহত বা আহত হয়েছে এবং শত শত ট্যাংক ও পর্মরিত যান ধ্বংস করা হয়েছে। রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একই সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের পাঠানো হাজার হাজার ড্রোন এবং অসংখ্য স্মার্ট বোমা সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে।

কিয়েভের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে ইউক্রেন বর্তমানে চরম অস্ত্র সংকটের মুখোমুখি এবং পশ্চিমা দেশগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন অস্ত্র আসতে দেরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নতুন করে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ঘোষণা দিলেও প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তা সময়মতো বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইউক্রেনের এই সামগ্রিক সামরিক ব্যর্থতা তাদের পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যেও গভীর হতাশার সৃষ্টি করেছে।

সার্বিক এই পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট বোঝা যায় যে রাশিয়ার নিরবচ্ছিন্ন সামরিক চাপ এবং কিয়েভের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পতন ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রটিকে একটি ধ্বংসের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে। একদিকে সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলোর পতন এবং অন্যদিকে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে জনগণের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ প্রমাণ করে যে বর্তমান সরকারের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। খুব শীঘ্রই এই দ্বন্দ্বের একটি সুনির্দিষ্ট পরিণতি দেখতে পাবে বিশ্ববাসী, যেখানে বিজয় সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার পক্ষেই থাকবে।

Walton Ads