সন্ত্রাসবাদকে রাজনীতির স্বার্থে ব্যবহার করছে পাকিস্তান সরকার, অভিযোগ ইমরান খানের
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অভিযোগ করে বলেছেন, দেশটির বর্তমান জোট সরকার সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদকে ‘রাজনৈতিক সুবিধা’র জন্য ব্যবহার করছে। শনিবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে এ অভিযোগ করেন ইমরান।
ইমরান খান বলেছেন, তার সরকারের আমলে সবচেয়ে কম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় এটা বেড়ে গেছে। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান বলেন, ‘সন্ত্রাসী ঘটনার ধারাবাহিক চিত্র দেখুন। পিটিআই সরকারের সময় এটা কতটা কমে গেছে, তা দেখুন। কেন্দ্রীয় সরকারের যখন পিটিআই ছিল, তখন সন্ত্রাসী ঘটনা কেন কম ঘটেছে?’
গত সোমবার জোহরের নামাজের সময় পাকিস্তানের পেশোয়ারে আঞ্চলিক পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরে মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে মসজিদ ভবনের একাংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। নিহত হন ৮০ জনের বেশি মুসল্লি।
পেশোয়ারের হামলার পর গত শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ বৈঠকে অংশ নিতে শাহবাজ শরিফ দেশটির প্রধান ইমরান খানকে আমন্ত্রণ জানান। আগামী মঙ্গলবার এ বৈঠক হওয়ার কথা। ইমরান খানের দেওয়া ভাষণে বাড়তে থাকা সন্ত্রাসী ঘটনা রোধে শাহবাজ শরিফ সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন।
পেশোয়ার পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী। এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযোগ করেন, প্রদেশ সরকার সন্ত্রাসবিরোধী কাজে বরাদ্দ অর্থ ঠিকমতো ব্যয় করছে না।
শাহবাজের এ অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন ইমরান খান। তার সরকারের আমলে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকবিলায় নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘নয় বছরে ৬০ হাজার কোটি রুপি ব্যয় হয়েছে। চারটি পুলিশ প্রশিক্ষণ স্কুল করা হয়েছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নওশেরা এলাকায় এলিট পুলিশের প্রশিক্ষণকেন্দ্র করা হয়েছে।’
এনবিএস/ওডে/সি