আসামে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ধরপাকড় চলছেই

ভারতে বিজেপিশাসিত অসামে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে ২,২৫৮তে পৌঁছেছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির সিনিয়র নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা বলেছেন, ‘হাজার হাজার নাবালিকাকে ভবিষ্যতে বাল্যবিবাহের হাত থেকে বাঁচাতে এই প্রজন্মের একাংশকে কষ্ট করতেই হবে। সরকারের লক্ষ্য একটাই, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই রাজ্যকে বাল্যবিবাহমুক্ত করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে রোববার আসামের হাইলাকান্দির বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর বলেন, ‘ আমরা বাল্যবিবাহের বিরোধী। কিন্তু বাল্যবিবাহের নাম করে একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। যদি কোনও আইন পাস করা হয়, সেই আইনটাকে মানুষের মধ্যে ঢালাওভাবে প্রচার করতে হয়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হয়। এসব কিছুই হয়নি। ওরা যখন যা ইচ্ছা তা-ই করছে। আশা করছি ওনার (মুখ্যমন্ত্রীর) শুভবুদ্ধির উদয় হবে’ বলেও মন্তব্য করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী আব্দুল মান্নান লস্কর।

ওই ইস্যুতে আসামের বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে আসামে আইনের শাসন চলছে না। ‘জঙ্গলরাজ’ শুরু হয়েছে রাজ্যে। বাল্যবিবাহের ঘটনায় স্বামীদের যেভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা এতে নারীদের অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হবে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে সেসব নারীদের, যাদের স্বামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরণের অবিবেচক সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। ধরপাকড়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের বৈঠকে উল্লেখ করবেন’ বলেও বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী জানান। মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের বৈঠকে অংশগ্রহণ করার জন্য বর্তমানে তিনি লক্ষনৌতে রয়েছেন।     

এদিকে, নাবালিকা অবস্থায় খুশবু খাতুন নামে এক নারীর বিয়ের পর তার স্বামী কোভিডে মারা গেছেন। নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দিয়েছিলেন তার বাবা। সেই অপরাধে বাবাকে গ্রেফতার করা হতে পারে আশঙ্কা করে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। দুই সন্তানের মা এ ভাবে আত্মহত্যা করায় মানকাচরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, তার বাবাকে তো গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতার করা হতে পারে ভেবে কেউ আত্মহত্যা করে না কি! মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাল্যবিবাহের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযুক্তের সংখ্যা ৮ হাজার ১৩৪।

এদিকে, এআইইউডিএফ প্রধান মাওলানা বদরউদ্দিন আজমল এমপি বলেছেন, তারাও বাল্যবিবাহের বিরোধী। কিন্তু সরকার যা করছে সেটা অমানবিক। তিনি বলেন, মুসলিমদের হেনস্থা করতেই পুলিশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রিপুন বরার মতে, রাজনৈতিক চমক সৃষ্টি করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আজকের মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস আমলে দীর্ঘ ১৫ বছর মন্ত্রী ছিলেন। সেই সময়ে কেন তিনি বাল্যনিবাহ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি? বর্তমানে তিনি রাজনীতির জন্য চমক সৃষ্টি করছেন।’  

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভূপেন বরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৭ বছর বয়সে ১১ বছরের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, তার ক্ষেত্রে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি করার সাহস তো কারো নেই।  

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দেবব্রত সইকিয়া বলেছেন, ‘অনেকেই নাবালিক বিয়ে করলেও সাত/আট বছর ধরে সুখে সংসার করছেন। এই পরিবারগুলোকে হেনস্থা করা ঠিক হচ্ছে না।’

কংগ্রেস নেতা তমালকান্তি বণিক বলেন, ‘আসামে বর্তমানে হিটলারি শাসন কায়েম করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। যা ‘জঙ্গলরাজ’-এর সমার্থক। বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হল, নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাব। কিন্তু গরীব মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষা দিতে মুখ্যমন্ত্রী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন’ বলেও মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা তমালকান্তি বণিক।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads