অবসরের বয়স বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রতিবাদ রাস্তায় ১০ লাখ মানুষ, জ¦লছে ফ্রান্স

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ সরকারি কর্মচারিদের অবসরে যাওয়ার বয়স বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে নেমেছে শ্রমিক-কর্মচারিদের ইউনিয়নগুলো। রাজপথে বিক্ষোভকারীরা যানবাহন ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করছে এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ঘটছে। গণধর্মঘট ও বিক্ষোভে আন্তনগর ও কমিউটার ট্রেন সেবা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্যারিস, নিস, মার্সেলি, তৌলুজ, নানতেসসহ অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। প্যারিসে শহর কর্তৃপক্ষ বলছে অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ শহরটির রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর অর্লির অর্ধেক ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। এ বিক্ষোভে ছাত্রদেরও যোগ দিতে দেখা গেছে। ১৮ বছরের এক ছাত্র এলিসা হাদ্দাদ বলেন, মূল্যস্ফীতি ও বিদ্যুতের মূল্য যেভাবে বাড়ছে তাতে অবসরের এ সংস্কার উদ্যোগে আমাদের পরিবারের ওপর তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আমি বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে না গেলেও এ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছি।

বিক্ষোভে গাড়ি ভাংচুর ও ডাস্টবিনগুলো রাস্তার ওপর এনে অগ্নিসংযোগ করায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আন্দোলনকারীদের হাতের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমি চাই না আমার বাবা কর্মক্ষেত্রে মারা যাক।’

ফ্রান্সে পেনশনসংক্রান্ত নতুন একটি বিলে সরকারি কর্মীদের অবসরে যাওয়ার বয়স ৬২ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে অনেক স্কুল ও সরকারি সেবা বন্ধ হয়ে গেছে। প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরে প্রতি পাঁচটি ফ্লাইটের একটি বাতিল করা হয়েছে। প্যারিস মেট্রোতে শুধু চালকবিহীন দুটি লাইনে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলেছে।

প্যারিসসহ অন্যান্য শহরে বড় ধরনের এ বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী এলিসাবেথ বোর্নে প্রস্তাবিত রূপরেখায় বলা হয়, পুরোপুরি পেনশন পাওয়ার যোগ্য হতে হলে কর্মীদের ৪৩ বছর কাজ করতে হবে। বর্তমানে যা ৪২ বছর।

আন্তর্জাতিক জরিপ ও বাজার গবেষণা সংস্থা আইএফওপি এ নিয়ে চলতি সপ্তাহে একটি জরিপ চালায়। সেখানে বলা হয়, ফ্রান্সের শেয়ার-আউট পেনশন ব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের সংস্কারটি জনগণের মধ্যে বেশ অজনপ্রিয় হয়েছে। ৬৮ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন।

তথাকথিত ‘সংস্কারপন্থী’ ইউনিয়নগুলোসহ সব দেশের ইউনিয়ন এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে (জাতীয় পরিষদ) বামপন্থী ও অতি ডানপন্থীরাও এর বিরোধিতা করেছেন। কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফ্যাবিয়ান রাসেল গত মঙ্গলবার আগাম ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন, বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের দেয়াল কেঁপে উঠবে।

কারণ অ্যাসেম্বলিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর রেনেসাঁ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তাই প্রেসিডেন্টকে প্রস্তাব পাস করাতে হলে রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির ৬০ বা তারও বেশি সংসদ সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। যদিও নীতিগতভাবে তারা পেনশন সংস্কারের পক্ষে, কিন্তু তাদের কেউ কেউ এর বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন।

এই বিল নিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ইমানুয়েল মাক্রোঁ বিরোধীদের প্রচারণার মুখোমুখি হতে পারেন। সরকারের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিণতি হতে পারে পরিবহন, হাসপাতাল ও জ্বালানি ডিপোতে ধর্মঘট হলে যা ফ্রান্সকে অচল করে দিতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads