বিয়ের পিঁড়িতে এইচআইভি পজিটিভ দুজন

রাত পোহালেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে। তার আগে সাত পাকে বাঁধা পড়লেন দুই যুগল। রঙিন আলোয়, অতিথি সমাগমে, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ ও পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে দিয়ে চার হাত এক হল। আর পাঁচটা বিয়ের মতো রীতি ও প্রথা মেনে বিয়ে হলেও, এই বিয়ে যথেষ্টই আলাদা। কারণ পাত্র-পাত্রী দুজনেই এইচআইভি পজিটিভ।

এইচআইভি পজিটিভ দুজন হলেন, সুনীতা যাদব ও সৌমিত্র গায়েন। জীবনযুদ্ধের এই লড়াইয়ে তারা একে অপরকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাদের বিয়ে দিলেন ‘শুভমস্তু’র মহিলা পুরোহিতরা।

সুনিতা, সৌমিত্র দু’জনেরই প্রতি মাসে অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি চলে। কলকাতা মেডিকেল কলেজে এজন্য আসতে হয় দুজনকেই। সেখানেই চিকিৎসা করাতে গিয়েই প্রথম দেখা ও আলাপ। এই পরিচয় থেকেই সম্পর্কটা প্রেমে গড়ায়। অবশেষে সেই সম্পর্ক পূর্ণতা পেল বিয়ের মাধ্যমে।

কলকাতা সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে এইচআইভি রোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা "আপনজন"। তারাই ধুমধাম করে সুনিতা-সৌমিত্রের বিয়ের আয়োজন করে। বিয়েতে কোনো রকম কার্পণ্য করেননি হোম কর্তৃপক্ষ।

এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে সুনিতার বাবা-মা মারা যাওয়ার পরে ছোটবেলাতেই এই হোমে ঠাঁই হয়েছিল সুনিতার। নিজেও এইচআইভি আক্রান্ত সুনীতা। মেদিনীপুর থেকে তাকে তিন বছর বয়সেই সোনারপুরের আপনজন হোমে নিয়ে আসে হোম কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে সুনিতা ভারতের একমাত্র এইচআইভি আক্রান্তদের দ্বারা পরিচালিত কলকাতা অতি পরিচিত কফি শপ "ক্যাফে পজিটিভ" নামে একটি কফি শপের ফ্লোর ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলাচ্ছে। অন্যদিকে সৌমিত্র ছোটবেলায় ডিপথেরিয়ার ইঞ্জেকশন নিতে গিয়ে এইচআইভি-তে আক্রান্ত হন। নিজস্ব ব্যবসায় সাবলম্বী সৌমিত্র। পাত্র-পাত্রী দু'জনের কেউই ভাবেননি তাদের জীবনেও স্বপ্নপূরণের দিনটা কোনোদিন আসবে। কিন্তু পাত্র-পাত্রীরা নিজেরা শুধুমাত্র এইচআইভি পজিটিভ নন। নিজেরা মনের দিক থেকেও পজিটিভ।

সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বার্তা দিলেন নবদম্পতি। এইচআইভি আর পাঁচটা সাধারণ রোগের মতোই, সঠিক চিকিৎসায় এই রোগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় কার্যত সেই বার্তা দিলেন সুনীতা ও সৌমিত্র।

বিয়ের কার্ড ছাপানো থেকে অতিথি আপ্যায়ন সবই করেছেন পল্লবীর হোমের কর্তারা। জানা গেভে, বিয়ের অনুষ্ঠানে পাত্রপক্ষের আংটি থেকে খাওয়ার ব্যবস্থা সবই করেছেন সমাজের বেশ কিছু সহৃদয় ব্যক্তি।

সোনারপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে মৃণাল বিশ্বাস বলেন "দুজন পজেটিভ এইচআইভি পিতামাতার থেকেও সুস্থ সন্তান পাওয়া সম্ভব। আমরা চাই সমাজের প্রত্যেক মানুষ এগিয়ে এসে এইচআইভি পজিটিভ শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণ করুক। এইচআইভি আক্রান্তদের সমাজ যাতে বাঁকা চোখে না দেখে তাদের পাশে দাঁড়ায়, তাদেরকে সুস্থ সমাজ উপহার দেয় সেই কারণেই এই উদ্যোগ"

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads