তালিবানে অন্তর্দ্বন্দ্ব : আখুন্দের  সমালোচনা হাক্কানির

আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালিবান প্রশাসনের প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দীন হাক্কানি প্রথমবারের মতো দলটির প্রচার বিমুখ প্রধান আধ্যাতিক নেতার সমালোচনা করে বলেছেন, একচেটিয়া ক্ষমতা সরকারের ক্ষতি করছে।

দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের খোশত প্রদেশে এক মাদ্রাসায় শনিবার জনপূর্ণ গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ক্ষুব্ধ কন্ঠে হাক্কানি বলেন,“একচেটিয়া ক্ষমতা ও গোটা ব্যবস্থার দুর্নাম সাধারণ ব্যাপার হয়ে পড়েছে।” শীর্ষ নেতা হাবিবুল্লাহ আখুন্দজাদেহর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে হাক্কানি বলেন, “এমন পরিস্থিতি কোনভাবে আর সহ্য করা যাবে না।”

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগ করার পর তালিবান ক্ষমতায় আসে। হাক্কানির এ মন্তব্যে তালেবান উপদলে গভীর বিভক্তির বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। গত বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষা ও কাজ নিষিদ্ধ করে আখুন্দজাদেহর ফরমানের পর মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়। এ সিদ্ধান্তের ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা জানানো হয়।

তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ তার নাম উচ্চারণ করা ছাড়াই হাক্কানির মন্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, “ইসলামী আইন অনুসারে আমীর, মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা যাবে না এবং তাকে এভাবে অবমাননা করা যাবে না।”

হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা সিরাজউদ্দীন হাক্কানি।  সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত এফবিআইএর অতি ফেরারির তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি হলেন তালিবান নেতাদের অন্যতম যিনি আখুন্দজাদেহর বিরোধিতা করলেন। তালিবান আমীর আখুন্দজাদেহ দেশে দক্ষিণের কান্দাহার নগরী থেকে ধর্মীয় নেতাদের পরিষদের ফতোয়ার মাধ্যমে দেশ শাসন করেন।

হাক্কানি বলেন, “আমরা জনগণের সাথে কি ধরণের আচরণ করছি তার ভিত্তিতে সরকারের টিকে থাকার বিষয় নির্ভর করছে। অতীতের সরকার ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত এবং জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন ও খারাপ আচরণের কারণে টিকতে পারেনি। আমরা জনগণের সাথে ভাল আচরণ করলে সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে।”

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হাক্কানি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নারীদের বৃহত্তর অধিকার প্রদানের পক্ষে যা সরকারের বিচ্ছিন্নতা রোধ করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। এ দু’নেতাকে তালিবানের মধ্যকার মধ্যপন্থী বলে মনে করা হয়।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads