ইমরান খানের ভ্রমণ ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করলো পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাড়ি (বানিগালা) থেকে অফিস পর্যন্ত যেতেই ‘পানাহগাহ’র ব্যয়ের চাইতে পাঁচ গুণ বেশি ব্যয় হয়েছে। দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল নিউজপেপার এ ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে এমন মন্তব্য করেছে। পানাগাহ ছিল ইমরান খানের এমনই একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প, যা গরীবদের সেবায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে, গরীবদের ব্যাপারে তিনি কতোটা যত্নবান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, পাকিস্তান বাইতুল মালের (পিবিএম) তত্ত্বাবধানে সারা দেশে ৩৯টি এহসাস পানাগাহ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামটি ছিল মূলত স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ জীবনযাপনের পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহের জন্য।

প্রোগ্রামটির শুরু থেকেই এই ৩৯টি এহসাস পানগাহ কার্যকর ছিল। ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তার জন্য ব্যয় হয়েছে ১৮৩.০১৫ মিলিয়ন রুপি। তদুপরি, পিবিএম খাবার সরবরাহের কয়েকটি গাড়ি ক্রয় করেছে। এই প্রোগ্রামের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘এহসাস কোই ভুখা না ছুয়ে’। এ ব্যাপারে ৪০টি গাড়ি ব্যবহার হচ্ছিল। তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ১৬১.০৮৮ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছে।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গরীবদের কল্যাণে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, ইমরান খানের বাড়ি থেকে দপ্তরে যেতেই ব্যয় হয়েছে তার ৫ গুণ ৯৮৪ মিলিয়ন রুপি। ক্ষমতায় আসার পর পিডিএম সরকার ইমরান খানের হেলিকপ্টার ব্যয়েরও বিস্তারিত প্রকাশ করে।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন। ইমরান খানের হেলিকপ্টারে ভ্রমণ ব্যয় ছিল ৪৭২.৩৬ মিলিয়ন রুপি, অথচ মেইনটেন্যান্স ব্যয় বলা হয়েছে ৫১১.৯৯৫ মিলিয়ন রুপি।

ইমরান খানের ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ ব্যয় ছিল ৩৭.৯৩ মিলিয়ন রুপি। একইভাবে ভ্রমণ খাতে ২০১৯ সালে ইমরান খানের ব্যয় ১৩১.৯৪ মিলিয়ন, ২০২০ সালে ১৪৩.৫৫ মিলিয়ন, ২০২১ সালে ১২৩.৮ মিলিয়ন এং ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ব্যয় ছিল ৩৫.১৪ মিলিয়ন রুপি।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads