প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়ছে, জান্তা প্রধানের স্বীকারোক্তি
অবশেষে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং স্বীকার করেছেন, প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আক্রমণের তীব্রতা বেড়েছে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এই হামলা শুরু হয়েছে।
বুধবার রাজধানী নেপিডোতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার রেডিও এ্যান্ড টেলিভিশনের (এমআরটিভি) ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আক্রমণের তীব্রতার বিষয়টি স্বীকার করেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে অস্থিতিশীলতা বিরাজ করার কারণে জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে সাগাইন ও ম্যাগওয়ে অঞ্চল এবং চিন ও কায়াহ রাজ্যসহ ৩৭টি টাউনশিপে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে। জান্তাপন্থী মিলিশিয়া এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বন্দুক, রাইফেল এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করতে অস্ত্র আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে, মিন অং হ্লাইং গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলকে বলেছিলেন, মিয়ানমারের ৩৩০টিরও বেশি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ১৯৮টি শতভাগ স্থিতিশীল। ১৩২টি টাউনশিপ রয়েছে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দখলে বা এসব এলাকার কিছু কিছু স্থানে যুদ্ধ চলছে।
মিন অং হ্লাইং বাকি অঞ্চলগুলোতে অস্থিতিশীলতার জন্য গণতন্ত্রপন্থী, সামরিক সরকারবিরোধী দলগুলোকে দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘তারা নিরপরাধ মানুষ হত্যা করছে, বোমাবাজি করে জন সমাগমস্থল উড়িয়ে দিচ্ছে এবং জনগণের ওপর সশস্ত্র ভয়ভীতি ও জবরদস্তি আরোপ করছে।’
২০২১ সালের মে মাসে হংকংয়ের চীনা ভাষার ফোয়েনিক্স টেলিভিশনকে বলেন, সেনা শাসনের বিরুদ্ধে মানুষ এভাবে রুখে দাঁড়াবে সেটা তিনি আগে বুঝতে পারেননি। তিনি তখন প্রতিরোধ যুদ্ধকে আবেগী প্রতিক্রিয়া বলে উল্লেখ করেছিলেন।
এনবিএস/ওডে/সি