সংবিধান লংঘনের অভিযোগ তুলে বাজওয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চান ইমরান খান
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির কাছে লিখিত এক চিঠিতে সাবেক সেনাপ্রধান (অব) কামার জাভেদ বাজওয়ার বিরুদ্ধে সেনাপ্রধান হিসেবে শপথ ভঙ্গের অভিযোগ এনে তদন্ত দাবি করেছেন। ডন
১৪ ফেব্রুয়ারি লেখা এই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জেনারেল বাজওয়া চারভাবে সংবিধান লংঘন করেছেন। তার দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জাভেদ চৌধুরীর ৯ ফেব্রুয়ারি লেখা একটি কলামের কথা বলেন। পাকিস্তান টেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতা শিরীন মাজারিও এক টুইটে তার দলের নেতার এই উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। টুইটে চিঠির কপিও ছাপা হয়।
জাভেদ চৌধুরীর কলামকে উদ্ধৃত করে চিঠিতে ইমরান লিখেছেন- সাংবাদিক জাভেদ চৌধুরীর কাছে জেনারেল বাজওয়া স্বীকার করেছেন- ‘ইমরান যদি ক্ষমতায় অব্যাহত থাকেন, তাহলে দেশের জন্য তিনি বিপজ্জনক হবেন বলে আমরা মনে করি’। ইমরান খান চিঠিতে যোগ করেন, ‘আমরা’ বলতে তিনি কাকে বুঝিয়েছেন। পিটিআই প্রধান বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে কেবল জনগণই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কাকে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান। তিনি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সংবিধানের থার্ড শিডিউল আর্টিকেল ২৪৪ অনুযায়ী শপথ ভঙ্গ করেছেন।’
দ্বিতীয় যে অভিযোগ জেনারেল বাজওয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছেন ইমরান, তাহলো- শওকত তারিনের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল একাউন্টেবলিটি ব্যুরোর (এনএবি) মামলা খারিজ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। এ কথা স্বীকার করেছেন জেনারেল বাজওয়া।
এরপরেই সাংবাদিক আফতাব ইকবালের ইউটিউব ব্লগের প্রসঙ্গ টানেন ইমরান। এতে বলা হয়, আলাপকালে ইকবালকে জেনারেল বাজওয়া বলেছেন, তখনকার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে একটি ফোনকল রেকর্ড করেছেন তিনি। একে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত মানবাধিবার লঙ্ঘন এবং সেনাপ্রধান হিসেবে শপথের মারাত্মক লংঘন বলে অভিহিত করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সরকারের নিরপেক্ষ ভূমিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আবার শপথ ভঙ্গ করেছেন জেনারেল বাজওয়া। তিনি ২০২২ সালের ২ এপ্রিল ইসলামাবাদে এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স- ইসলামাবাদ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এসব কথা বলেন। ইমরান বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞসহ সব রকম অংশীদারের সঙ্গে মতবিনিময় করে সর্বসম্মতিক্রমে সরকার ওই নীতিতে এসেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে সেনাপ্রধান সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
এনবিএস/ওডে/সি