আদানি কাণ্ড মোদিকে দুর্বল করবেই, ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসবে: জর্জ সোরোস
ভারতে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের দাম নিয়ে যে ডামাডোল শুরু হয়েছে তা আখেরে নরেন্দ্র মোদিকে দুর্বল করবে বলে মন্তব্য করলেন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও ধনকুবের জর্জ সোরোস। তার মতে, এই ঘটনায় যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে তার ধাক্কায় ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জর্জ সোরোস হলেন এক ধনকুবের। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন নামে এক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। স্বচ্ছতা, বাক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষ্যে তার এই প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি বা কোনও গোষ্ঠীকে অনুদান দিয়ে সাহায্য করে।
এহেন উদ্যোগপতি যে ভাবে আদানি কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন তাতে বিনিয়োগ বাজার তো বটেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিও আন্দোলিত হয়ে গিয়েছে। কারণ, আদানি কাণ্ডের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদিকে জড়িয়ে এরকম সরাসরি আক্রমণ আন্তর্জাতিক স্তরে এখনও পর্যন্ত কেউ করেনি। সেদিক থেকে জর্জ সোরোসই প্রথম।
জার্মানির মিউনিখে এক সিকিউরিটি কনফারেন্সে জর্জ সোরোস বলেছেন, “মোদি এ বিষয়ে এখনও নীরব। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ও সংসদকে তাকে জবাব দিতেই হবে।” এর পরই সোরোস বলেন, “এই ঘটনা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় মোদির রাশকে দুর্বল করবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দরজা খুলে দেবে।” তার কথায়, আমি এ ব্যাপারে খুব যে জানি তা নয়, তবে আমি আশা করছি ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে আসবে।
সোরোসের এ কথার অর্থ পরিষ্কার। তা হল ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই। তার এই কথা যে কেন্দ্রে শাসক দল তথা বিজেপি খণ্ডন করতে চাইবে তা নিয়ে সংশয় নেই। বিপরীতে এতে অনেকটাই উজ্জীবিত বিরোধীরা।
প্রসঙ্গত, জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে গৌতম আদানির সংস্থা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল মার্কিন শর্ট সেলার সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। তার পর থেকেই শেয়ার বাজারে আদানির শেয়ারের দাম ধস নামতে শুরু করেছে। ভারতের শিল্প বাণিজ্য মানচিত্রে আদানি গোষ্ঠীর যেভাবে ধূমকেতুর মতো উত্থান হয়েছে, তার নেপথ্যে নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা রয়েছে বলে বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই সরব। ফলে হিন্ডেনবার্গের রিপোর্ট হাতে নিয়ে মোদির উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও বাকি বিরোধীরা। কিন্তু এ ব্যাপারে সংসদেও এখনও পর্যন্ত কোনও জবাব দেননি প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার সোরোসের মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন কোনও মাত্রা যোগ করে কিনা।
এদিকে মার্কিন শিল্পপতি সোরোসের এধরনের বক্তেব্যের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন স্মৃতি ইরানি। তিনি অভিযোগ করেন ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এবং ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় অর্থনীতির ভূয়সী প্রশংসা করছেন তখন একজন মার্কিন শিল্পপতি ভারতকে আক্রমণ করছেন। মোদির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পপতি জর্জ সোরোসের এই ধরনের বক্তব্যের উপযুক্ত জবাব দেওয়া প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য। একই সঙ্গে সোরাসের মন্তব্যকে অগণতান্ত্রিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সোরোস এও দাবি করেন আদানির শিল্প সাম্রাজ্যে জালিয়াতি এবং স্টক ম্যানিপুলেশনের অভিযোগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এবং সংসদে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। তিনি বলেন, আদানি ইস্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি কেন নীরব? প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এবং সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
জর্জ সোরোস একজন মার্কিন শিল্পপতি। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদির বিরুদ্ধে পুঁজিবাদের প্রচারের অভিযোগ করেছেন। ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেছেন। জর্জ সোরোস আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে মোদির ঘনিষ্ঠতার কথাও তোলেন। এদিনই তাকে নিশানা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি।
এনবিএস/ওডে/সি