দক্ষিণ মেরুর পুরু বরফের স্তর গলছে, ভাঙছে হিমশৈল, জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব শুরু হয়েছে

ফাটল ধরেছে হিমবাহে। বিশাল বরফের চাঁই ভেঙে পড়ছে আন্টর্কটিকায়। চিড় ধরছে জমাট বাঁধা বরফের স্তুপে। জলবায়ু বদলের (Global Warming) অশনি সঙ্কেত এসেছিল আগেই। তার ভয়ঙ্কর প্রভাব দেখা দিচ্ছে গত কয়েকদিন ধরে। । আমেরিকার ‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’ একটি রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে দক্ষিণ মেরু সমুদ্র এবং লাগোয়া অঞ্চলে ভয়ানক দ্রুত গতিতে বরফের স্তর গলে যাচ্ছে। বরফে ঢাকা এলাকার আয়তনও কমছে।
‘ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার’ জানাচ্ছে, আগামী কয়েক মাসে বরফ গলার পরিমাণ আরও বাড়বে। মেরুসমুদ্রের বরফ গলে যাওয়ায় সমুদ্রের জলস্তর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বিশ্ব উষ্ণায়ণের জেরে তাতছে পৃথিবী (Global Warming)। জলবায়ু বদলের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ মেরুর বরফের দেশে। প্রকাণ্ড সব হিমবাহ হলতে শুরু করেছে। ভেঙে পড়ছে বরফের দেওয়াল। সেই বরফ গলা জল সমুদ্রে গিয়ে মিশে জলস্তর বাড়িয়ে তুলছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, পশ্চিম আন্টার্কটিকায় উপকূল বরাবর বিশাল হিমবাহগুলিতে চিড় ধরেছে। ইতিমধ্যেই হিমবাহ ভেঙে সমুদ্রের জলস্তর বেড়েছে। পুরোপুরি গলতে শুরু করলে সমুদ্রের জলস্তর ৫ শতাংশ অবধি বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এর আগে আন্টার্কটিকার পাইন আইল্যান্ডের যে বরফের প্রাচীর ভেঙে পড়েছিল তার কারণেই সমুদ্রের জলস্তর ৪ ফুট (১.২ মিটার) বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, আন্টার্কটিকার বরফের বিশাল বিশাল পুরু চাঙড়গুলি পুরোপুরি গলে গেলে আর ১০০ বছরে অন্তত ১০ ফুট উঠে আসতে পারে সমুদ্রের জলস্তর। তাতে বহু দেশের বহু শহর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউইয়র্ক থেকে মুম্বই–সমুদ্র উপকূলবর্তী শহরগুলি ভয়ানক বিপদের মুখে রয়েছে। 
বিজ্ঞানীরা অঙ্ক কষে দেখেছেন, ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল অবধি প্রতি বছরে ৮০ হাজার কোটি টন করে বরফ গলেছে। ২০০০ সালের পর থেকে উষ্ণায়ণের প্রকোপ বাড়ায় আরও বেশি হারে বরফ গলতে শুরু করেছে পৃথিবীতে। ২০১৭ সাল অবধি বছরে গড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টন করে বরফ গলেছে।

 খবর দ্য ওয়ালের?এনবিএস/২০২৩/একে 
 

Walton Ads