আর্থিক নয়ছয়ের অভিযোগ বিবিসির ভারত অফিসের বিরুদ্ধে

 বিবিসির দিল্লি ও মুম্বাই অফিসে তিনদিনের তল্লাশী অভিযান শেষ করার পর আয়কর কর্মকর্তারা বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় নিলেন এ বিষয়ে মুখ খুলতে। আর বয়ানের শুরুতেই আয়কর বিভাগ জানালো, বিবিসির হিসেবপত্রের খাতায় বেশ গোলমেলে কিছু লেনদেনের সন্ধান তারা পেয়েছেন। সহজ কথায়, কর ফাঁকির অভিযোগ তোলা হলো ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির বিরুদ্ধে।

নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, সেই সময়কার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষয়ে তথ্যচিত্র বানিয়েছিলো বিবিসি। মোদিকে যুক্ত করে এমন একটি ডকুমেন্টরি সহ্য করতে পারেনি ভারতের সরকার এবং জনগণ। সরকারিভাবে তথ্যচিত্রটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাস্তায় বিবিসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। তথ্যচিত্রের সঙ্গে বিবিসির দুই অফিসে আয়কর বিভাগের তল্লাশীর যোগসূত্র রয়েছে, জনমনে এমন ধারণা প্রবর।

টানা ষাট ঘণ্টার এই অভিযানকে তল্লাশী বলতে নারাজ ভারতের আয়কর কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা বলছেন, তারা একটি সার্ভে পরিচালনা করেছেন।

অভিযান ফলাফল বর্ণনা করতে গিয়ে আয়কর বিভাগ বিবিসির নামোল্লেখ করেনি। বলেছে, খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক একটি মিডিয়ার দুটি অফিসে তারা সার্ভে করেছেন। দুটি অফিস থেকে আয় ও লাভের যে হিসেবপত্র দেওয়া হয়েছে, তা সংস্থার বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংস্থাটি ভারত থেকে আয়ের একটি অংশ গোপন করেছে, তাই ওই আয়ের ট্যাক্সও দেয়নি।

পুরো ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিবিসির কোন প্রতিক্রিয়া নেই। তারা বিষয়টাকে যেনো স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন। সংস্থার বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আয়কর বিভাগের তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

বিবিসির প্রেস অফিস বলেছে, আমাদের কাজকর্ম স্বাভাবিক হচ্ছে। আমরা পাঠক, শ্রোতা আর দর্শকদের নিরপেক্ষ সংবাদ দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিবিসি একটি নির্ভরযোগ্য, স্বাধীন সংবাদ প্রতিষ্ঠান এবং আমরা আমাদের সহকর্মী ও সাংবাদিকদের পাশেই আছি, যারা কোনো নির্ভীকভাবে, কোনো আনুকুল্য ছাড়া সংবাদ দিতে থাকবেন।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads