টয়লেট বিহীন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে তুর্কীর বেঁচে যাওয়া ভাগ্যহতরা

দুর্যোগে বেঁচে গেলেও আন্তাকিয়ার অষ্টাদশী এক কিশোরী সিদাফ এখন আতংকে রয়েছেন যেকোনো সময় নানা রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হবার। কারণ হিসেবে বলছেন বিধ্বস্ত শহরটিতে নেই পর্যাপ্ত টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা। তুরষ্ক ও সিরিয়া মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

কয়েক লাখ লোক এখন ঘর বাড়ী ও শীতের মধ্যে পর্যাপ্ত ওষুধ ছাড়া খোলা আকাশের নীচে বা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।  আর ধ্বংসস্তুপে এখনও হয়ত অনেকেই আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা সিদাফের। কিছু ভবন অক্ষত থাকলেও নেই কোনো টয়লেটের ব্যবস্থা। এমনকি গোসলেরও নেই কোনো ব্যবস্থা ।

হুসনে দুজ (৫৩) বলেন, আমরা তাঁবুতে থাকছি। কিন্ত টয়লেট খুব দরকার। যাতে আমরা গোসল করতে পারি।  কাপড় ধুতে ওয়াশিং মেশিনও দরকার আমাদের। এএফপিকে  সিদাফ বলেন, এ প্রাচীন শহরটিতে প্রায় ৫ লাখ লোক বেঁচে গেলেও আমরা রোগব্যাধিতেই মার যাব। তার পরিবারের পরিচয় দেননি তিনি।   

এদিকে কিছু ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা করা হলেও এসবে পানি নেই ও ভেতরের অবস্থা খুব বাজে বলে মন্তব্য করেন নুরহান তুরুন (৪২)। এখন পর্যন্ত নীল রঙয়ের পনেরটি টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে আন্তাকিয়ার মূল কেন্দ্রে। ব্যবহার করতে গিয়ে উপচে পড়ছে এগুলো।

কিন্ত পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় এ ধরণের অপরিচ্ছন্নতা থেকে  নানা রোগে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার ভ্রাম্যমাণ  ১২টি ফার্মেসী ও ৩০ জন চিকিৎসক নিয়োজিত করেছেন শহরটির জনগণের স্বাস্থ্যসেবা দিতে। তুর্কী মেডিকেল এসোসিয়েশনের অনুর কারাহাঞ্চি বলেন, এখানকার বেশীরভাগই বয়ষ্ক। কষ্টে তারা এখন বাঁচতে চায়না। তাদের বেশীরভাগই নানা অসুখে আক্রান্ত।

শহরটির তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রীতে (৩২ ডিগ্রী ফারেনহাইট) নেমে আসায় শিশুরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান চিকিৎসকর।

রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের মহাসচিব জাগান চাপাগাইয়েন এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন  সিরিয়াবাসীরা ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাদের দ্রুত স্থায়ী ভবনে স্থানান্তর করা জরুরী নয়ত এ ঠান্ডায় অস্থায়ী শিবির ও স্কুলঘর গুলোতে আশ্রিতরা দীর্ঘদিন থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। দেশটির যুদ্ধ বিধ্বস্ত অন্যতম বড় শহর আলেপ্পো এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় আছে। সেখানে এই দুর্যোগ তাদের মনোবলকে যেন ভেঙে দিয়েছে ।

আইএফআরসি এরই মধ্যে ২১৬.৮ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে যা দিয়ে ২.৪ মিলিয়ন লোককে আগামী দুই বছর পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া যাবে। জাতিসংঘের বারোটির মত  ট্রাক  ত্রাণ সহয়ায়তা নিয়ে সিরিয়ার সরকার অধ্যুষিত এলাকায় পৌছেছে। অন্যদিকে বিদ্রোহী সমর্থিত দেশটির উত্তর পশ্চিমের ৫ মিলিয়ন লোকের জন্য আরও ৩৯৭ মিলিয়ন ডলার ত্রাণ সহায়তার আহবান করা হয়েছে বলে জানান চাপাগায়েন।

ইউএনইচসিআরেরে এক তথ্যে দেখা যায়, যদি যথাযথ আশ্রয় ও সাহায্য না দেওয়া যায় তবে  প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন মানুষ বাস্তহারা হয়ে পড়বে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads