পাকিস্তানে পুলিশ দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত বেড়ে ১০
মধ্য করাচির একটি থানা ভবনে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছেন আরো আটজন। জিওটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর চার ঘন্টার অভিযানে হামলাকারী তিন সন্ত্রাসীই নিহত হয়েছে। এছাড়া নিহত হয়েছেন চারজন বেসামরিক, দুই পুলিশ এবং সিন্ধু রেঞ্জারের একজন সাব-ইনস্পেক্টর।
এছাড়াও সন্ত্রাসী হামলায় আরো আটজন বেসামরিক, রেঞ্জার ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর আগে অপর একটি সন্ত্রাসী হামলায় পেশোয়ারের সিভিল লাইনের মসজিদে ৮৪ জন নিহত হয়েছেন।
দি ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান।
জিও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, কেপিও এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সদর পুলিশ লাইনের ভিতরে কোনো নিরাপত্তা গেইট নেই। সেখানে পুলিশ সদস্যদের পরিবার বাস করে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা পেছনের ওয়াল পার হয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছে। হামলার সময় নগর পুলিশ প্রধানের তিনটি চেক-পোস্টে কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। সূত্রগুলো বলেছে, কেপিও’র কাঁটা তারগুলোও কাটা ছিল। সেখানে ভবন তদারকিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও ছিল না।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ করেছে। যে গাড়িতে সন্ত্রাসীরা এসেছিল সেটা সদর পুলিশ স্টেশনের সামনেই পড়ে আছে।
আইন-শৃংখলা বাহিনী তিন সন্ত্রাসী পরিচয় শনাক্ত করেছেন। সন্ত্রাসীদের দুইজন উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও একজন লাক্কি মারওয়াত থেকে এসেছে।
পুলিশ কমান্ডো ও প্যারামিলিটারি সদস্যরা দীর্ঘ অভিযানে করাচি পুলিশ স্টেশনকে সন্ত্রাস মুক্ত করে। ডিআইজি ইস্ট মুকাদাস হায়দার, ডিআইজি সাউথ ইফরান বেলুচ, ডিআইজি র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স (পিআরএফ) নাসির আফতাব, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং সিন্ধু রেঞ্জার্স এই দম বন্ধ করা অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীও তাদের সাহায্য করেন।
সিন্ধুর আইজিপি গুলাম নবী মেমন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযানে তিন সন্ত্রাসীই নিহত হয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি