যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জোট ঘোষণা না হলেও, জোট গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএনপি।

বৃহস্পতিবার ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন বলেন, "যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে ছিল, আমরা তাদের নিয়েই নির্বাচনে যেতে চাই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে হলে সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নেওয়াই ভালো। সে লক্ষ্যে আমরা জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছি।"

তিনি আরও বলেন, “আমরা দক্ষিণপন্থী না, উত্তরপন্থী না, আমরা বাংলাদেশপন্থী। আমরা একটি মধ্যপন্থী অবস্থানে বিশ্বাস করি। এ কারণে সব রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে সংলাপ করছি। গণমানুষের দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সবার সঙ্গে আলাপ করা। দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক সম্মান ও সমঝোতার পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”

সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, "ইসলামপন্থী দলগুলোও জনগণের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। আইন তৈরি করার আগে যদি সবার মত নেওয়া হয়, তাহলে তা বাস্তবায়ন সহজ হয়। এ জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে ঐকমত্যের চেষ্টা করছি।"

নির্বাচন কমিশনে প্রধান উপদেষ্টার পাঠানো চিঠি নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, “গত এক বছরে এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। কমিশন এই চিঠির জন্যই অপেক্ষা করছিল। প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সংস্কার, বিচার প্রক্রিয়ার উন্নয়ন দেখে অবশেষে আশ্বস্ত হয়েছেন। এরপরই এই চিঠি এসেছে।”

তিনি আরও জানান, “জনগণের দাবি ছিল, অন্তত আগামী রমজানের আগেই যেন নির্বাচন হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা সম্মত হয়েছিলেন। এরপর যৌথ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়া জরুরি—এখন তা হয়েছে বলেই তিনি প্রস্তুত।”

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যেসব সংস্কার সংবিধান সংশোধন ছাড়া বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো নির্বাচন পূর্বেই কার্যকর করতে বিএনপির কোনো আপত্তি নেই।”

সরকারের এক বছরের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক, কিন্তু সরকার তা পূরণ করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবচেয়ে বেশি ব্যর্থতা ছিল।”

news