মস্কোর কাছে ড্রোনের আঘাত: ইউক্রেন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার পুতিনের নির্দেশ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনে হামলা চালানোর এক বছর পরে ড্রোন হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর তিনি এ নির্দেশ দিলেন। ড্রোন হামলা মস্কোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ৬০ মাইল দক্ষিণপশ্চিমে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়। আরও দু’টিকে ভূপাতিত করা হয়।

রুশ কর্তৃপক্ষ উত্তরাঞ্চলে সেইন্ট পিটার্সবার্গের আকাশ সীমাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিছু কিছু খবরে বলা হয়েছে, একটি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর নগরী আকাশ বন্ধ করার এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ছাড়া কয়েকটি টেলিভিশন কেন্দ্র ক্ষেপনাস্ত্র হামলার হুঁশিয়ারি বার্তাও প্রচার করে। কর্মকর্তারা এ জন্য হ্যাকারদেরকে দায়ী করেন। এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

মস্কোর আঞ্চলিক গভর্নর আন্দ্রে ভরোবিয়োভ এক বিবৃতিতে বলেন, “কলোমনা জেলায় একটি ইউএভি বা ড্রোন বিধ্বস্ত হয়। এটি সম্ভবত একটি অসামরিক স্থাপনার অবকাঠামোকে টার্গেট করেছিল যার কোন ক্ষতি হয়নি।”  তিনি বলেন, কেউ হতাহত বা কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এফএসবি (নিরাপত্তা বাহিনী) ও অন্যান্য সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করছে।

যে অবকাঠামোকে সম্ভবত টার্গেট করা হয়েছিল কর্তৃপক্ষ সেটির বিষয় স্পষ্ট করে জানায়নি কর্তৃপক্ষ। তবে যেখানে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয় তার কাছে গুবাস্তোভো গ্রামে রাশিয়ার বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি গ্র্যাজপ্রোমের একটি স্থাপনা রয়েছে।

এ হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি ইউক্রেনের ইউজে-২২ এর মতো। ইউক্রেনের উকরজেট এটি তৈরি করেছে। এর পাল্লা ৮০০ কিলোমিটার যা কলোমনা অঞ্চলে পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট। যদি এটি ইউক্রেনের ড্রোন হয় তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে রুশ রাজধানীর খুব কাছে কিয়েভের ড্রোন হামলার চেষ্টা। ই্উক্রেনের কর্মকর্তারা কোন হামলা চালানোর কোন দাবি করেননি। তবে তারা এর আগেও এ ধরণের হামলা ও নাশকতা চালানোর দায়িত্ব স্বীকারের বিষয়টি তারা সরাসরি এড়িয়ে যান।
ড্রোন হামলায় কোন ক্ষতি হয়নি

গভর্ণর আলেকজান্ডার বোগোমাজ এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়ার বাহিনী গত মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের ব্রাইনস্ক অঞ্চলে একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। ইউক্রেন ও বেলারুশ সীমান্ত থেকে অনেক দূরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত সোমবার রাতে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বেলোগোরোদ অঞ্চল টার্গেট করে তিনটি ড্রোন পাঠায় ইউক্রেন। তার একটিকে এপার্টমেন্ট ভবনের উপর দিয়ে উড়তে দেখা যায়। বেলোগোরোদ ইউক্রেনে খারকিভ থেকে প্রায় ৫০ মাইল দূরে অবস্থিত। সেখানকার গভর্ণর ভাইয়াচেস্লাভ গ্লাডকভ বলেন, এতে ভবনটির সামান্য ক্ষতি হয় কিন্ত কেউ হতাহত হয়নি।

ওাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়,  ইউক্রেন রাশিয়ার ক্রাসনোদার ও তার কাছে অবস্থিত আদিগেয়ায় ড্রোন হামলা চালায়। ইলেক্ট্রনিক্স যুদ্ধ সরঞ্জামের মাধ্যমে ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা হয়। এর একটি মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হয় এবং অন্য দু’টি তার নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুত হয় । ফলে সেগুলো তাদের হামলার লক্ষবস্তু অবকাঠামোগুলোতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়।

মস্কো ক্রিমিয়া উপদ্বীপসহ রাশিয়ার অভ্যন্তরে সামরিক স্থাপনায় কয়েকটি ড্রোন হামলার জন্য ইউক্রেনকে দোষারোপ করেছে। ২০১৪ সালে রাশিয়া উপদ্বীপটি দখল ও নিজের সাথে সংযুক্ত করে নেয়।

গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়া জানায় যে, তারা এনজেলসএ তাদের কৌশলগত বিমান ঘাঁটির কাছে কয়েকটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। স্থানটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গত জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বাসভবনে প্যান্টসির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের ছবি প্রকাশ পায় তবে ক্রেমলিন এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads