ইরান-সৌদি সম্পর্কে নাটকীয় অগ্রগতি: দূতাবাস খুলছে দু’দেশ

ইরান ও সৌদি আরব ৭ বছর পর আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে। দু’মাসের মধ্যে তারা পরস্পরের রাজধানীতে তাদের দূতাবাস খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ দু’টির মাঝে আবার বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাও শুরু হতে যাচ্ছে।  

চীনের মধ্যস্থতায় বেইজিং এ দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিন পরস্পর থেকে দূরে থাকা  দু’দেশই  বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেছে।

বেইজিংয়ের সমঝোতা বৈঠকে ইরান ও সৌদি আরব পরস্পরের স্বার্বভ্যেমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং পরস্পরের আভ্যন্তরীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতেও সম্মত হয়েছে। দু’দেশ ২০০১ সালে তাদের মধ্যে সম্পাদিত নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি সক্রীয় করতে এবং বানিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আগের চুক্তিগুলোও পুণরুজ্জীবিত করতে রাজী হয়েছে।

ইরান ও সৌদি আরব তাদের সম্পর্ক পুণপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এর আগে ইরাক ও ওমানে ২০২১ ও ২০২২ সালে যে আলোচনা করেছে তারই ধারাবাহিকতায় বেইজিং আলোচনায় তাদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে এ নাটকীয় অগ্রগতি অর্জিত হলো। বেইজংয়ে তিন দেশের দেয়া যৌথ বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শান্তির প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ইরান-সৌদি কুটনৈতিক সম্পর্ক পুণস্থাপনে সম্মত হওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে এবং আমরা সাধারণভাবে ইয়েমেনে য্দ্ধু বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের যে কোন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইরান ও চীন উভয়ের সঙ্গেই ওয়শিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। আবার ইয়েমেনে যে গৃহযুদ্ধ চলছে তাতে ইরান এবং সৌদি আরব  পরস্পরবিরোধী পক্ষগুলোকে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে । ২০১৬ সাল থেকে হতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এ দু’দেশের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল না। সেবছর সৌদি আরব এক শিয়া নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর তেহরানের সৌদি দূতাবাসে হামলা হয়েছিল। আর তারপর দু’দেশের সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটে।

বেইজিংয়ে চীনের মধ্যস্থতায় দু’দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদে মাত্র ৪ সমঝোতা আলোচনায় ৭ বছরের হিমশীতল সম্পর্কের বরফ গলানো সম্ভব হয়েছে। চীন সরকার এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে । তবে দেশ দু’টির মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অর্থ এ নয় যে, তাদের নীতিগত অবস্থানে কোনও পরিবর্তন ঘটেছে। পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রাখাটাই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads