বিপর্যয়ের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দেউলিয়া হল যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক
তহবিল সংকট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এ ব্যাংকটির সংকট শুরু হয়। ব্যাংকটির আমানত সোয়া দুই বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি করে কার্যক্রম সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়ে যায়। গ্রাহকরা গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪২ বিলিয়ন ডলারের আমানত তুলে নেয়। ব্যাংকটির সিকিউরিটিজ পোর্টফোলিও ভয়ানক লোকসানের মুখে পড়ে। এর পাশাপাশি তহবিলে পড়ে টান। ফলে মূলধন সংগ্রহ করার চেষ্টা শুরু করতেই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের (এসভিবি) ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের বন্ড ও শেয়ারে পতন শুরু হয়ে যায়। বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতিকে লেম্যান ব্রাদার্স এবং এভারগ্রান্ডের লিকুইডিটি সংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
রেটিং সংস্থা মুডিজও সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের নম্বর কমিয়ে দিয়েছে। তারা বলছে, ক্রমবর্ধমান সুদের হার, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টে ভাটা এবং ব্যাংকের গ্রাহকদের অনীহা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসভিবি এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ঋণদাতার সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক, এসভিবি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। মূলত নতুন ব্যবসা-স্টার্টআপদের ঋণ দিয়ে থাকে এই ব্যাঙ্ক।
রেস্টিভ ভেঞ্চারসের ফিনটেক বিনিয়োগকারী রায়ান ফালভে সিএনবিসিকে বলেন, যারা এ ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তাদের লক্ষ্য হচ্ছে কিভাবে তাদের অর্থ পুনরুদ্ধার করবেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের পর ব্যাংকটির যাবতীয় আমানতের নিয়ন্ত্রণ ইউএস ফেডারেল ডিপোজিট ইন্সুরেন্স করপোরেশনের (এফডিআইসি) হাতে চলে যায়। রয়টার্স বলছে, এফডিআইসি যে দায়িত্বে এসেছে, এর মাধ্যমে তারা আমানতকারী এবং পাওনাদারসহ গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যবস্থা নেবে। সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় এবং সব শাখা ১৩ মার্চ আবার খুলবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৃহত্তম বেসরকারি ঋণদাতাদের মধ্যে অন্যতম এই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে ২০০৮ সালের পর এটিই দেশটির ইতিহাতে ব্যাংকিং খাতে এলো বড় অনিশ্চয়তার কালো মেঘ।
এনবিএস/ওডে/সি