হঠাৎ নির্বাচন পেছানোর রায়ে সংকটে ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট ও সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ পেছানোর ঘটনায় দেশটিতে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। হঠাৎ করে জাকার্তার একটি আদালত এক রায়ে ভোট বিলম্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং এ রায়কে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করা হয়েছে।
জাকার্তার কেন্দ্রীয় জেলা আদালত চলতি মাসের প্রথম দিকে এক রায়ে জানায় যে, নির্বাচন আড়াই বছর পিছিয়ে দিতে হবে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। রায় অনুযায়ী তা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালে।

অপেক্ষাকৃত অজ্ঞাতনামা রাজনৈতিক দল প্রিমার দায়ের করা এক মামলার পর বিচারক এ রায় দেন। দলটি অভিযোগ করেছে যে, তাদেরকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তাদেরকে নিবন্ধনের সুযোগ দেয়া হয়নি। তিন বিচারকের প্যানেল তার রায়ে জানায়. সাধারণ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ভুলের কারণে প্রিমা তার নথিপত্র ইলেক্ট্রনিক্যালি জমা দিতে পারেনি। একারণে অন্যায়ভাবে দলটির অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে।

বাদ পড়া একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে নির্বাচনকে বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার অনেকে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তারা আদালতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।

পার্থের মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক লেকচারার আইয়ান উইলসন আলজাজিরাকে বলেন, ‘সরকার ও রাজনৈতিক দল উভয়পক্ষের নেতৃস্থানীয়রা আদালতের রায়কে নেতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করছেন। ইন্দোনেশিয়ার জনগণের বেশিরভাগই যে নির্বাচনে নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠানের পক্ষে, তা পরিস্কার।’

তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে প্রিমাকে নিবন্ধন না করার সিদ্ধান্তকে দলটি চ্যালেঞ্জ করেছে আদালতে। সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো আদালত সমগ্র নির্বাচন করার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি মামলার ব্যাপারে বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।’

উইলসন বলেন, ‘ মনে হচ্ছে আদালত তার আইনি কর্তৃত্বের বাইরে সরে এসেছে। এতে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, এর পেছনে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’

গত ২ মার্চ আদালত রায় দেয় যে, তারা ন্যায় বিচার পুণ:প্রতিষ্ঠা করতে এবং ভুলত্রুটি ও অপেশাদারিত্বের মতো কোন ভুল হয়ে থাকলে সম্ভব শিগগিরই তা দূর করতে চায়। একটি প্রশাসনিক আদালত এর আগে প্রিমার অভিযোগ খারিজ করে দেয়। ফলে দলটি সিভিল কোর্টে মামলা করতে বাধ্য হয়।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads