জাপান উপকূলে অতি গভীর পানিতে মাছের সন্ধান
সমদ্রস্তর থেকে পানির ৮ হাজার ৩৩৬ মিটার গভীরে অতি অন্ধকার ও প্রচন্ড চাপের মধ্যে এক ধরণের মাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এটি এক ধরণের স্নেইলফিশ হতে পারে। মাছটির শরীর জেলির মতো। শরীরের এমন গঠন পানির এতো গভীরে বিচরণ করতে সহায়ক হয়েছে। জপান উপকূলের কাছে অতি গভীর পানির মাছকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন একদল বিজ্ঞানী। এর আগে ২০১৭ সালে ম্যারিয়ানা খাতে ৮ হাজার ১৭৮ মিটার পানির গভীরতম পানির স্নেইলফিশ পাওয়া গিয়েছিলো।
দক্ষিণ জাপান উপকূলের ইজু-ওগাসাওয়ারা খাতে ৮ হাজার ৩৩৬ মিটার গভীরে একটি স্বয়ংক্রিয় ল্যান্ডারের সাহায্যে সেখানকার ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়।
গবেষক দলের প্রধান ইউনিভার্সিটি অব অস্ট্রেলিয়ার গভীর সমুদ্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক এলান জামিয়েসন বলেন, আগের চাইতে ১৫৮ মিটার গভীরে বিচরণ দেখা গেছে নতুন মাছটিকে। মারিয়ানা খাত হচ্ছে বিশ্বের সবচাইতে গভীর খাত। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১০ হাজার ৯৩৫ মিলিমিটার। বিজ্ঞানীরা ছবি ধারণ করতে পারলেও নতুন আবিষ্কৃত মাছটিকে পুরোপুরিভাবে সনাক্ত করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
দশক ধরে বিশ্বজুড়ে গভীরতম পানির মাছ অনুসন্ধানের পর মাছটির সন্ধান মিলল। স্নেইলফিশকে সত্যিকার অর্থে অদ্ভুত মাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর রয়েছে ৩শ’ এর বেশি প্রজাতি, যার বেশির ভাগই বাস করে অগভীর পানিতে। নদীর মোহনাতেও এদের দেখা যায়। কিন্তু সেই স্নেইলফিশই উত্তর মহাসাগর ও দক্ষিণ মহাসাগরের ঠাণ্ডা পানির জীবন মানিয়ে নিয়েছে। এমনকি বিশ্বের গভীরতম খাতে পানির চরম চাপেও টিকে আছে। স্নেইলফিশকে তাদের জেলির মতো শরীর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
বিজ্ঞানীর জানাচ্ছেন, পানির ৮ কিলোমিটার গভীরে স্নেইলফিশকে ৮০ মেগাপ্যাসকেলেরও বেশি চাপ সহ্য করতে হচ্ছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের চাপের তুলনায় ৮০০ গুণ বেশি। এতো চাপে মাছের বিচরণের বিষয়টি বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিস্ময়কর ঘটনা।
সাধারণত মাছে যে পটকা (বাতাসে পরিপূর্ণ বেলুন জাতীয় অঙ্গ) থাকে, তা স্নেইলফিশে না থাকার কারণে বাড়তি সুবিধা রয়েছে মাছটির। তাছাড়া এরা চুষে ও খোলকী যেসব খাবার গ্রহণ করে, সেগুলো অনেক খাতেই মেলে।
অধ্যাপক অ্যালান জেমিসন বলছেন, মারিয়ানা খাতের চাইতেও গভীরে এই মাছ পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে ইজু-ওগাসাওয়ারার পানি অপেক্ষাকৃত উষ্ণ।
এনবিএস/ওডে/সি