ভারতের ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না: ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আবদুল্লাহ দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, সরকার স্কুল পাঠ্যক্রম থেকে মুঘল আমলের অধ্যায়গুলো মুছে ফেলার চেষ্টা করলেও ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।
শনিবার ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, আপনারা শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, বাবর, আকবর ও জাহাঙ্গীরের মতো মুঘল শাসকদের কীভাবে ভুলে যেতে পারেন? ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘মুঘলরা ৮০০ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে। হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখরা কখনই বিপদ অনুভব করেননি।
জনসাধারণ যখন তাজমহল, ফতেহপুর সিক্রি, লাল কেল্লা এবং হুমায়ুনের সমাধি দেখতে যাবে, তখন আপনি কীভাবে তাদের লুকিয়ে রাখবেন? এসব স্থাপনা আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। তাই সরকার যতই চেষ্টা করুক না কেন ইতিহাস বদলাতে পারবে না।’
তিনি বলেন, তাজমহল দেখতে গেলে সেটি কে তৈরি করেছেন বলবেন? তারা ফতেপুর সিক্রি সম্পর্কে কী বলবেন, যেখানে দিল্লির আগে মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। হুমায়ুনের সমাধি ও লাল কেল্লা লুকিয়ে রাখবেন কী করে?’ ‘তারা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছে। ইতিহাস বদলাবে না। আমরা চিরকাল থাকব না, কিন্তু ইতিহাস থেকে যাবে’ বলেও মন্তব্য করেন ডা. ফারুক আবদুল্লাহ।
অন্যদিকে, ভারতে একদল প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ স্কুলের পাঠ্যপুস্তক থেকে বিভিন্ন অধ্যায় সরিয়ে দেওয়াকে একটি বিভাজনমূলক ও পক্ষপাতমূলক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। তারা অবিলম্বে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। রোমিলা থাপার, জয়ন্তী ঘোষ, মৃদুলা মুখার্জি, অপূর্বানন্দ, ইরফান হাবিব, উপিন্দর সিং-এর মতো শিক্ষাবিদ এবং ইতিহাসবিদ ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)-এর পাঠ্যপুস্তকে কাটছাঁট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমেই ছাত্র-ছাত্রীদের ইতিহাস সচেতন করা তোলা উচিত। সেই পথ থেকে সরে এসে যদি এ ভাবে পাঠ্যক্রম কাটছাঁট করা হতে থাকে, তাতে ‘ছদ্ম ইতিহাস’-এর জমি তৈরি হতে থাকে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এখন তো হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্য সমাজমাধ্যমগুলোর মাধ্যমে অন্য ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।’
‘এনসিইআরটি’র বক্তব্য, রাতারাতি কিছু বদল হয়নি।অতিমারিকালে শিক্ষার্থীদের উপর পড়াশোনার চাপের বিষয়টি নজরে রেখে গতবছরই পাঠ্যক্রমে কিছু বাদ পড়েছে।এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই বলেও তাদের দাবি।
এনবিএস/ওডে/সি