নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের জন্ম দিতে পারে, খাদ্যের দাম আরো বাড়বে

 রাশিয়ার খাদ্যশস্য রপ্তানিকারকরা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পশ্চিমা ব্যবসাগুলি শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা প্রদান করতে অক্ষম হচ্ছে, এর পরিণতি দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে বিশ^ বাণিজ্য সংস্থা বলেছে, সারের দাম বছরে ৬৩ শতাংশের চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ডব্লিউটিও উল্লেখ করেছে যে, তাত্ত্বিকভাবে, উচ্চ খাদ্য খরচ ‘আরো কৃষি উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে, যার ফলে ভবিষ্যতে খাদ্যের জন্য আরও বেশি চাহিদা বৃদ্ধি পাবে কিন্তু এর যোগান দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ সারের মূল্য বৃদ্ধিতে ফসলের ফলন হ্রাস করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত, খাদ্যের দাম বাড়বে।

বিশ^বাণিজ্য সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে খাদ্যের দাম ২০২২ সালে জোরালোভাবে ওঠানামা করেছিল, প্রথমে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তারপরে মে ও ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫ শতাংশ হ্রাস পায়। তাই সতর্ক করে বলা হচ্ছে, ইউক্রেন সংকটের ক্ষেত্রে ‘বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহ অনেকের আশঙ্কার চেয়ে কম অনিশ্চিত’ কিন্তু তা উদ্বেগের কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্ব গম বাণিজ্যের পরিমাণ, উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সাল থেকে মোটামুটি ৭.৫ শতাংশ কমেছে, এরপর যদি কোনো প্রধান উৎপাদক ফসলের ব্যর্থতা বা জলবায়ু-সম্পর্কিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয় তবে খাদ্যের দাম আরো বেড়ে যাবে।

এদিকে রুশ শস্য রপ্তানিকারকদের ইউনিয়নের প্রধান এডুয়ার্ড জারনিন সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে যদিও খাদ্যসামগ্রী পশ্চিমা শক্তি দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, কিন্তু দেশগুলিতে অবস্থিত বা নিবন্ধিত সংস্থাগুলি পদ্ধতিগতভাবে রুশ সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করতে অস্বীকার করছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে এই বা সেই দেশের ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠানগুলি রয়েছে যারা অর্থপ্রদান প্রত্যাখ্যান করছে, বা এই বা সেই দেশের পতাকা উড়ছে এমন জাহাজ যা সমস্ত বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ রুশ বন্দরে প্রবেশ করা বন্ধ করে দিয়েছে।

রাশিয়া বিশ্বের ২০শতাংশ বেশি শস্যের রপ্তানি চালানের জন্য অবদান রাখে, বিশ্বের বাজার থেকে রুশ পণ্যগুলিকে মুছে ফেলা বা বাতিল করার সর্বশেষ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ এই ধরনের অসামান্য পরিমাণ সরবরাহ বাদ দেওয়া অনিবার্যভাবে বিশ^ব্যাপী খাদ্য সংকট সৃষ্টি করবে। রুশ খাদ্য রপ্তানিতে প্রত্যক্ষভাবে বাধা দেওয়া অসম্ভব, কিন্তু আমরা যদি রুশ শস্যের চালানকে লক্ষ্য করে ছদ্মবেশী নিষেধাজ্ঞার আরেকটি উত্থানের সম্মুখীন হই, তাহলে দুর্ভিক্ষ অনিবার্য হতে পারে। জারনিনের মতে, গত বছর রাশিয়ান রপ্তানিকারকদের উপর প্রযোজ্য গোপন নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রতি টন গমের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকোনজো-আইওয়ালা বুধবার উন্নত অর্থনীতির প্রতি দরিদ্র দেশগুলিতে ক্ষুধা সৃষ্টিকারী খাদ্য সংকটের লক্ষণগুলির প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি খাদ্য ও সারের উপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ফের দাবি করে বলেন, চলতি এপ্রিল মাস পর্যন্ত, প্রায় ৬৭টি দেশে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের সংকট এবং অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক নীতি কঠোর করার প্রভাব তো রয়েছেই।

এদিকে পোল্যান্ড অস্থায়ীভাবে ইউক্রেনীয় শস্য আমদানি বন্ধ করার কথা ঘোষণা দিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ থেকে সস্তা পণ্যের পূর্ব ইউরোপীয় বাজার প্লাবিত হওয়ার পরে দামের হ্রাসের প্রভাব কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া এবং বুলগেরিয়ার কৃষকরা ইউক্রেনীয় শস্যের আমদানি বৃদ্ধির কারণে যথেষ্ট ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে যা প্রাথমিকভাবে আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নির্ধারিত ছিল, কিন্তু পরিবর্তে পূর্ব ইউরোপে তা আটকে গেছে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads