মিয়ানমারের আসলেই কত অংশ জান্তাদের নিয়ন্ত্রণে
জান্তা বিরোধী বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ এবং ছায়া সরকার বলেছে, তারা দেশটির প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেশাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার বলেছিল, দেশটির ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ৭২টি নিয়ন্ত্রণ করে জান্তা সরকার।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লায়িং জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকে প্রকাশ্যেই বলেছেন, ১৯৮টি টাউনশিপ পূর্ণ শান্তিতে আছে। এছাড়া ৬৭টি টাউনশিপে প্রাধান্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং ৬৫টি টাউনশিপে ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে কিছু গ্রামাঞ্চলেও আরো অধিকতর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ কিন্তু তিনি কোন কোন এলাকা কোন ক্যাটেগরিতে পড়ে তা উল্লেখ করেননি। তিনি যে ১৯৮টি টাউনশিপ পূর্ণ শান্তিতে রয়েছে, সেগুলো কতোটা শান্তিতে আছে তাও খতিয়ে দেখার বিষয়।
সাদা চোখে বলা যায়, যেসব স্থানে যুদ্ধ হচ্ছে না সেগুলোই জান্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু প্রতিরোধ যোদ্ধারাও কিছু অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে যেখানে কোনো যুদ্ধ নেই। সেখানে জান্তাদের কোনো চিহ্নও নেই বলে বলা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ওয়া অঞ্চলটি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে জান্তাদের কোনো হদিস নেই। এভাবে রাখাইন রাজ্যের কথাও বলা যায়। এই রাজ্যটিতে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মিদের (এএ) মধ্যে কোনো যুদ্ধ নেই। কিন্তু রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়ে জান্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া রাজ্যের প্রায় সব এলাকাই আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ করছে। সুতরাং ১৯৮টি টাউনশিপের উপর জান্তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলা যায় না।
মূল বিষয় হলো দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের শুধু রাজধানীগুলোতেই জান্তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে বলা যেতে পারে। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি সাগায়িং অঞ্চলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দেশটির রাজধানী নেপিডোতে জান্তাদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে বলা যায়। বাণিজ্যিক শহর ইয়ানগুনে এমনিতে কোনো যুদ্ধ নেই, কিন্তু মাঝেমধ্যেই গেরিলা কায়দায় হামলা হয়।
এনবিএস/ওডে/সি