সুদানে ফের সংঘর্ষে জড়ালো সামরিক বাহিনী ও আরএসএফ

 দেশটির রাজধানী খার্তুমে এক ঘন্টা মানবিক কারণে বন্দুক যুদ্ধ বন্ধ থাকার পর দুই পক্ষের মধ্যে আবারো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নিয়ন্ত্রণ নিতে তীব্র সংঘর্ষ চলছে তৃতীয় দিনের মত। এ পর্যন্ত ৫৬ জন নিহতের পাশাপাশি ১ হাজারেরও বেশি লোকের আহতের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার দেশটির সামরিক বাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যা পিড সাপোর্ট ফোর্সেস (এরএসএফ)’র মধ্যে চলমান সংঘর্ষের বিষয়ে এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এদিকে মিশর ও চাদ তাদের নিজ নিজ দেশের সীমান্ত এলাকা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সুদান পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক আন্তঃদেশীয় সরকার কর্তৃপক্ষ (আইজিএডি) এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে নেতৃবৃন্দ কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও জিবুতি হয়ে খার্তুম পর্যন্ত বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একমত হয়েছেন।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে অপসারণ করতে মূলত এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এরা আগে ২০১৯ সালে   ক্ষমতায় বসেন তিনি। বেসামরিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য চাপের মুখে থাকলেও তিনি তা মেনে নিতে অসম্মতের পাশাপাশি আধা সামরিক এই বাহিনীটিকে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অন্তর্ভূক্তির বিষয়েও জানিয়ে আসছেন দ্বিমত। আর এই ধারাবাহিকতায় সেনা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরএসএফ প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

এদিকে রোববার ও সোমবার আরএসএফ জানায় তারা দেশটির রাজধানী খার্তুম ও সংলগ্ন অমদুমান শহরসহ পশ্চিমের দারফুর ও মিরোয়ি বিমানবন্দর  দখলে নিয়েছে। অন্যদিকে সামরিক বাহিনী বিমানবন্দর তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করে আসছে। এসময় তারা খুব অল্প সংখ্যক বিদ্রোহী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধ করেছে বলে দাবি জানিয়েছে।

এদিকে খার্তুমের চিকিৎস্করা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খুবই জটিলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আহতদের মধ্যে জরুরি চিকিৎসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের জন্য সাময়িকভাবে  এই বন্দুক যুদ্ধ বন্ধ করা হয়েছিল।

রয়টার্স জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী এর আগে এর এস আফের দখলের বিষয়টি সম্পূর্ণরুপে অস্বীকার করেছিল। তারা দাবি করে আরএসএফের ঘাটিতে সফলভাবে হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।

খার্তুমের এক বাসিন্দা হুদা রয়টার্সকে বলেন, আমরা গুলির শব্দে গত ২৪ ঘন্টায় ঘুমাতে পারছিনা। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন রয়েছি আমাদের খাদ্য ও পানীয় ক্রমাগত ফুরিয়ে আসছে।

সিএনএন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(ডব্লিউএইচও) সংঘর্ষে আহতদের স্বাস্থ্যগত দিকটি বিবেচনা করে অবাধে যেন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে নির্বিঘ্নে কাজ করা যায় সেটির প্রতি খেয়াল রাখতে দুইপক্ষকেই আহবান জানিয়েছে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads