সুদানে চলমান সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০
সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৭ এপ্রিল) তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে। আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী।
গত তিনদিন ধরে চলমান এই সংঘর্ষে সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। সুদানে জাতিসংঘের এক দূত হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ অভিহিত করে একে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। সাবেক এই মিলিশিয়া বাহিনীর সেনাবাহিনীতে একীভূত হওয়ার আলোচনা চলছিল।
চলমান সংঘাত মূলত সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ কমান্ডার জেনারেল মোহামেদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে। এক সময়ের মিত্র এই দুই জেনারেল এখন একে অপরের ‘জানের শত্রু’।
সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে আরএসএফ ২০১৯ সালে সুদানের দীর্ঘদিনের শাসক ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এর পর থেকে সেনাপ্রধান বুরহানের নেতৃত্বে সার্বভৌম পর্ষদ সুদানে ক্ষমতায় রয়েছে। ক্ষমতাসীন এই পর্ষদে উপনেতা হিসেবে রয়েছেন আরএসএফ প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো।
দুই বাহিনীর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। শনিবার (১৫ এপ্রিল) হঠাৎ করেই প্রবল সংঘাতে রুপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানায়, ওইদিন রাজধানী খার্তুমে বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের মধ্যদিয়ে সংঘর্ষের শুরু হয়।
রোববার (১৬ এপ্রিল) আরএসএফ দাবি করেছিল, রাজধানী খার্তুম, পার্শ্ববর্তী শহর ওমদুরমান, দারফুরের পশ্চিমাঞ্চলে, সুদানের উত্তরে মেরোওয়ে বিমানবন্দরের অংশগুলো দখলে নিয়েছে। পরবর্তীতে বিমানবন্দরসহ বেশ কিছু জায়গায় পুনরুদ্ধার করেছে জানিয়ে পাল্টা বিবৃতিতে দেয় সেনাবাহিনী।
সোমবার (১৭ এপ্রিল) সুদানের রাজধানী খার্তুমের আবাসিক ভবনগুলোর খুব কাছ দিয়েই উড়তে দেখা যায় সামরিক হেলিকপ্টার। আগের দিন রবিবার কয়েক দফা চক্কর দিতে দেখা যায় যুদ্ধবিমানকে। আরএসএফের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে করে হামলা চালায় দেশটির বিমান বাহিনী।
খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ব্যাপক কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। শুধু বিমানবন্দর নয়, শহরের বিভিন্ন স্থানে একই পরিস্থিতি। কোথাও কোথাও ভারী গোলাবর্ষণ হয়েছে দুই বাহিনীর মধ্যে।
সুদানে হঠাৎ নতুন করে অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন পার্শ্ববর্তীসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। জি-৭ দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সময় সুদানে যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, সুদানের জনগণ চাচ্ছে, সামরিক বাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাক। সাধারণ মানুষ গণতন্ত্র চায়। তারা বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সরকার চায়।
এনবিএস/ওডে/সি