গা জ্বালানো গরমে পুড়ছে এশিয়া, ভারত-চীন-থাইল্যান্ডে তীব্র তাপপ্রবাহ

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে এশিয়ার একাধিক অঞ্চল। সবেচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারত, চীন, থাইল্যান্ডে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এশিয়ার একাধিক অঞ্চলে যেভাবে তাপপ্রবাহ বেড়েছে, তা আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেছে।

বিগত কয়েক দশকে তাপপ্রবাহের কারণে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের পূর্বাভাস, আগামী কয়েক দশকে ভারতের একাধিক জায়গায় তাপপ্রবাহ এত তীব্র হয়ে উঠবে যে কার্যত ধ্বংসের সম্মুখীন হবে নাগরিক জীবন। তাপমাত্রা সহনশীলতার সীমা ছাড়ানোর ফলে এক একটি জনবহুল এলাকা হয়ে পড়বে বসবাসের অযোগ্য। জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সংক্রান্ত দফতরের প্রধান মার্টিন গ্রিফিথসের মতে, তাপপ্রবাহ, খরা বা বন্যার মতো পরিস্থিতিতে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উন্নয়নশীল দেশগুলি। 

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদ ম্যাক্সিমিলিয়ানো হেরেরা বলেছেন, চলতি এপ্রিলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে। চীনের চেংড়ু, ঝিজিয়াং, নানজিং ও ইয়াংঝি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। 

সুমেরুতে বিপজ্জনকভাবে হিমবাহ গলছে, মেরুপ্রদেশের বরফ সংরক্ষণ করছেন বিজ্ঞানীরা। একই পরিস্থিতি থাইল্যান্ডেও। সেখানকার কয়েকটি প্রদেশে গত তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে রেকর্ড একই তাপমাত্রা ছিল ২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ সপ্তাহে দেশটিতে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গেই তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। 

রিপোর্টে দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ না করলে এই শতকের শেষে ক্যানসার বা সংক্রামক ব্যাধির ফলে মৃত্যুর হারের সঙ্গে পাল্লা দেবে তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হার। মানুষের কার্যকলাপের জন্যই উষ্ণায়ন হচ্ছে। কার্বন এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হচ্ছে এত বেশি পরিমাণে যে, তা তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে, ফলে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। বর্তমানে ভূপৃষ্ঠের যা উষ্ণতা, তা শিল্পবিপ্লবের পূর্বের বিশ্বের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতার চেয়ে ১.০৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশি। এর মধ্যে মানুষের অবদান ১.০৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড, বাকিটা প্রাকৃতিক কারণে। মহাসাগরের চেয়ে মহাদেশগুলির স্থলভাগে তাপমাত্রা বেশি বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের উপর তার প্রভাব এখনই বেশ স্পষ্ট, উত্তাপ যত বাড়বে তা আরও প্রকট হবে।

Walton Ads