ইসরায়েলে বন্দী ফিলিস্তিনি নেতার মৃত্যু, উত্তপ্ত পশ্চিমতীর
মঙ্গলবার ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিসের (আইপিএস) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বিবিসি। তার মৃত্যু সংবাদ জানাজানি হওয়ার পরপরই পশ্চিমতীরে বিক্ষোভ হয়। একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, শহর বন্ধ করে দেবেন। তিনি জানান, আরো অনেক কিছুই হতে পারে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ৪৫ বছরের খাদের আদনান আরো পাঁচ বার অনশন করেন। ২০১৫ সালে তিনি ৫৫ দিন অনশন করেছিলেন। কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই তাকে ডিটেনশনে দেওয়া হয়েছে।
এই সপ্তাহে ইসরায়েল মানবাধিকার সংস্থার একদল চিকিৎসক তার সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন খাদের আদনান মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত খাদের আদনান ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে খাদের আদনানকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনশনের সময় তিনি কোনো চিকিৎসা নিতেও অস্বীকার করেছিলেন। খাদের আদনানের মৃত্যুর খবর পেয়ে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা থেকে অন্তত তিনটি রকেট ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। খাদের আদনান অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের বাসিন্দা ছিলেন।
সশস্ত্র ইসলামিক জিহাদ ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, ‘এই অপরাধের মূল্য দিতে হবে’ ইসরায়েলকে।
তিনি দুই দশক ধরে ইসরায়েলে বন্দী ছিলেন। আদনানের মৃত্যুর আগে তার স্ত্রী রান্দা মোসা জানিয়েছিলেন, আদনানের অবস্থা আশঙ্কাজনক, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহায়তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে খাদের আদনানকে আটক করা হয়েছিল।
রামাল্লার বিরজেইট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক বলেছেন, ‘ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ খাদের আদনানের মৃত্যু নিয়ে যাই বলুক না কেন, এ মৃত্যুর দায় ইসরায়েল অস্বীকার করতে পারবেনা। তাকে অকারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কারাগারে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়নি।’
তিনি বলেন, মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা না হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।’
এনবিএস/ওডে/সি