সৌদি আরবের উদ্যোগে নতুন মেরুকরণের পথে মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা কমিয়ে সৌদি আরব আঞ্চলিক নির্ভরশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সিরিয়া, ইরান ও ইরানের মদদপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনার পর এবার লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই সংলাপ খুব শিগগিরই হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি বিশ্লেকরা মনে করছেন সৌদি প্রশাসন প্রকৃতপক্ষে আঞ্চলিক সম্পর্ক ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের একই সময়ে তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর দিকে মনযোগী হলো রিয়াদ।

এ ব্যাপারে লেবাননের আরবী ভাষায় প্রকাশিত আল-আকবর প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে ইরানের ইংরেজী বার্তা সংস্থা মেহের নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছে একজন সৌদি কর্মকর্তা। সৌদি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেছেন, রিয়াদ শিগগিরই হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংলাপে বসতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আল-আখবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচেষ্টা সফল বা ব্যর্থ হোক, উভয় ক্ষেত্রে এ কথা সুস্পষ্ট হয়েছে যে, সৌদি আরব তার আঞ্চলিক সম্পর্ক ঢেলে সাজানোর চেষ্টা করছে। সৌদি পররাষ্ট্রনীতির এই পরিবর্তনকে ‘অভূতপূর্ব’ বলেও মন্তব্য করেছে পত্রিকাটি।

ইরান সমর্থিত হুতি ও হিজবুল্লাদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সৌদির নতুন পথচলা শুরু হবে বলে মনে করেন। সৌদি ও ইরানের দূতাবাস দুটিও কার্যক্রম শুরু করবে শিগগিরই । এই নতুন মেরুকরণকে ইসরায়েল কিভাবে নিবে তা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। তবে সৌদির এই উদ্যোগের পাশাপাশি হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা এবং ইসরায়েলের মধ্যে অস্ত্রবিরতি শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।

মেহের নিউজের অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বুধবার সিরিয়া সফর শুরু করেছেন। ২০১১ সালে বিদেশি মদদপুষ্টদের দিয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইরানি প্রেসিডেন্ট সিরিয়া সফর করছেন।

অপর একটি সূত্র উল্লেখ করেছে, সিরিয়া সংকট নিয়ে সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যেও আলোচনা শুরু হবে। সিরিয়ায় থাকা তুর্কি সেনাবাহিনীও আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই প্রত্যাহার হতে পারে।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads