খার্তুমে প্রচন্ড লড়াই, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্ষীণ
সুদানের রাজধানী খার্তুমের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও সেনাসদরদপ্তরের কাছ থেকে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস(আরএসএফ) সদস্যদেরকে সেনাবাহিনী হটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বুধবার সেখানে প্রচন্ড লড়াই শুরু হয়। ফলে দেশটিতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়ছে।
দু’সপ্তাহরও বেশি সময় ধরে সুদানে লড়াই চলছে। উভয় পক্ষ সম্ভাব্য আলোচনার আগে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোত নিজেরদে অবস্থান সংহত করতে লড়াই করছে বলে মনে হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে আলোচনা করার কোন আগ্রহ দেখাচ্ছে না। রাজধানী কাছে অবস্থিত ওমদুরমান ও বাহরি শহরেও ভারী গোলাবর্ষনের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে জাতিসংঘ মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানের নিরাপদ পথ করে দেয়ার জন্য সুদানের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে চাপ প্রয়োগ করছে। এরআগে জাতিসংঘের ৬টি ট্রাক লুট হয়। এ ছাড়া রাজধানীতে বিমান হামলায় যুদ্ধবিরতি উপেক্ষিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের ত্রাণ প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, তিনি সুদানের যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সঙ্গে দু’তিন দিনের মধ্যে সামনাসামনি বৈঠকে বসার আশা করছেন। তিনি তাদের কাছ থেকে ত্রান সামগ্রী বিতরণের জন্য তাদের কাছ থেকে ত্রান বহরের নিরাপত্তার গ্যারান্টি লাভের চেষ্টা করবেন।
জাতিসংঘ হুঁশিয়ার করে দিয়েছে যে, সুদানের লড়াই মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে। আর তা অন্যন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। গত ১৫ এপ্রিল সুদানে সেনাবাহিনী ও ্মিলিশিয়া বাহিনী র্যপিড সাপোর্ট ফোর্সেসএর মধ্যে এ লড়াই শুরু হয়। এতে ৫৫০ জন নিহত ৪৯২৬ জন আহত হয়েছে। প্রায় এক লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে গেছে, যাদের কাছে খাদ্য ও পানীয় নেই বললে চলে।
সেনাবাহিনী ও আরএসএফ দু’বছর আগে যৌথভাবে সামরিক অভ্যূত্থান ঘটায়।তারা মিলে দেশ শাসন করছিল। অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে অসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে তারা ব্যর্থ হয়।
আরএসএফ অভিযোগ করেছে, সেনাবাহিনী বুধবার ভোর থেকে যুদ্ধবিরতি লংঘন করে আবাসিক এলাকায় বিমান ও কামান হামলা চালায়।
সুদানের সামরিক নেতার দূত বুধবার বলেন, সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করার সৌদি-মার্কিন উদ্যোগকে মেনে নিয়েছে, তবে আরএসএফের সঙ্গে যুদ্ধবন্ধের কোন মধ্যস্থতাকে নয়। দূত দাফাল্লাহ আলহাজ কায়রোয় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিদল আরএসএফের সঙ্গে মুখোমুখি নয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা করবে।’
এনবিএস/ওডে/সি