ইসলামাবাদে পাকিস্তান-চীন-আফগান ত্রিপক্ষীয় বৈঠক
ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দিতে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গাং ও আফগান অন্তবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মৌলবী আমির খান মুত্তাকী শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছেন। আজ শনিবার (৬ এপ্রিল) তিন দেশের মধ্যে দিনব্যাপী এ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চলতি মাসের প্রথম দিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আফগান অন্তবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি প্রদান করে। এর ফলে মুত্তাকীর পাকিস্তান সফর করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার পরিষদের অবরোধের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ আটক ও অস্ত্রু নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়ে ছিলেন।
আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমুখপাত্র জিয়াদ আহমদ শুক্রবার বলেছেন, আফগান সরকার দ্বিপা্িক্ষক রাজনৈতিক-বানিজ্যিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আফগান-পাকিস্তান ট্রাঞ্জিট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে আগ্রহী।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাং এর এটি প্রথম পাকিস্তান সফর। মুত্তাকী গত নভেম্বরে পাকিস্তান সফর করেছিলেন। তালেবান কাবুলে ক্ষমতাগ্রহণের কয়েক মাস পরে তিনি ওই সফরে গিয়েছিলেন।
কাতারের দোহায় আফগানিস্তান বিষয় জাতিসংঘের উদ্যোগে চলতি সপ্তাহে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মুত্তাকী পাকিস্তান সফরে এলেন। তালেবান সরকারের অংশগ্রহণ ছাড়াই দোহার ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান তার উত্তরপূর্বাঞ্চলের প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। দু’দেশের মধ্যে ডুরান্ড লাইন বলে পরিচিত ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। আফগানি সীমান্ত সংলগ্ন পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের খাইবার, পাকতুনখাওয়া এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বালুচিস্তান প্রদেশে সম্প্রতি হামলা সহিংসতা বৃদ্ধির মধ্যে মুত্তাকী পাকিস্তান সফরে এলেন।
পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করছে যে, আফগান ভূখন্ড থেকে তেহরিক-ই- তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলা চালাচ্ছে। এ সশস্ত্র গ্রুপটির সঙ্গে তালেবানের আদর্শিক সম্পর্ক রয়েছে। দু’দেশের কথা কাটাকাটি হলে এবং পাকিস্তান বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও ইসলামাবদা আফগান তালিবানের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এদিকে দিল্লিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) বৈঠকে বক্তৃতাকালে শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলওয়াল ভুট্টো-জারদারি অন্তবর্তী আফগান সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অর্থবহ যোগাযোগেরর আহ্বান জানান।
পাকিস্তান-আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আবুল সৈয়দ বলেন, সম্প্রতি উত্তেজনার সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে মুত্তাকীর পাকিস্তান সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সংলাপের তৃতীয় পক্ষ চীনের অপর দু’পক্ষের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ও আগ্রহ রয়েছে। বেইজিং হচ্ছে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও সামরিক অংশিদার। দেশটিতে রয়েছে ৬ হাজার কোটি ডলারের উচ্চাভিলাষী চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর।
এনবিএস/ওডে/সি