বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে মারা যান একজন মা বা নবজাতক: ডব্লিউএইচও

বিশ্বে প্রতি বছর গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা জন্মের প্রথম সপ্তাহে ৪৫ লাখেরও বেশি নারী ও শিশু মারা যায় যা প্রতি সাত সেকেন্ডে একজনের মৃত্যুর সমান। এক  নতুন রিপোর্টে এ কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বার্ধক্য, মাতৃ, নবজাতক ও শিশু-কিশোর স্বাস্থ্যের পরিচালক ডা. আংশু ব্যানার্জি বলেন, বিশ্বব্যাপী গর্ভবতী নারী এবং নবজাতকরা যেভাবে মারা যাচ্ছে তা মেনে নেয়া যায় না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপের কারণ হিসেবে দারিদ্র ও মানবিক সংকটকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। রিপোর্টে বলা হয়, প্রতি বছর ২ লাখ ৯০ হাজার মাতৃমৃত্যু হয়। এছাড়া ১৯ লাখ শিশু মায়ের গর্ভধারণের ২৮ সপ্তাহ পর মাতৃগর্ভেই মারা যায় এবং ২৩ লাখ শিশু জন্মের প্রথম মাসে মারা যায়।

রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে,  উন্নয়নশীল দেশগুলোতে  অ্যাসপিরিেিনর মতো ওষুধ ব্যবহারসহ গর্ভবতী নারীদের সহজ ও সস্তা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা করলে ১০ লাখেরও বেশি শিশুর মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়া বা জন্মের পর মারা যাওয়া রোধ করা যেতে পারে। গবেষকরা ৮১টি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে গর্ভাবস্থায় এবং শিশুর জন্মের সময় নারী ও শিশুর যত্ন নেয়ার জন্য দেশগুলোর সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত একাধিক গবেষণাপত্র অনুসারে, আটটি প্রমাণিত এবং সহজে বাস্তবায়নযোগ্য ব্যবস্থা এ দেশগুলোতে ৫ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি মৃত সন্তান প্রসব রোধ করতে পারে।

এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের জন্য আনুমানিক ১১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলা গবেষকরা জানিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের টেম্পের ইউনিভার্সিটির প্রধান গবেষণা লেখক এবং অধ্যাপক পার অ্যাশর্ন বলেছেন, এটি অন্যান্য স্বাস্থ্য প্রোগ্রামগুলো যা পায় তার একটি ভগ্নাংশ।

উপসাহারা অঞ্চল ও মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এ ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব দেশের ৬০ শতাংশেরও কম নারী ডব্লিউএইচও’র সুপারিশ করা ৮টি প্রসবকালীন সুপারিশের মধ্যে চারটি পাচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের টেকনিক্যাল ডিভিশনের পরিচালক ডা: জুলিটা ওনাবাঞ্জো বরেছেন, গভবর্তী নারী বা কিশোরীর মৃত্যু মানবাধিকারের লংঘন।

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads