বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের জরুরি অবস্থার অবসান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রায় ১০ মাস পর গত বৃহস্পতিবার (১১ মে) জানায়, এমপক্স বা মাঙ্কিপক্স প্রাদুর্ভাব বর্তমানে আর বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ নয়। তাই এ বিষয়ক ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ তুলে দেওয়া হলো। বিশ্বব্যাপী মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণ কমে যাওয়ার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস।
তবে ডব্লিউএইচও প্রধান বলেছেন, এই রোগটি এখনো হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে আফ্রিকার সেই অঞ্চলগুলোতে, যেখানে এই ভাইরাসটি দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে।
গত সপ্তাহে করোনাভাইরাস মহামারিও আর ‘বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ নয় বলে ঘোষণা করেছিল ডব্লিউএইচও। এরপর মাঙ্কিপক্স সংক্রান্ত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার অবসান ঘোষণা করল ডব্লিউএইচও।
এর আগে গত বছর ২৪ জুলাই মাঙ্কিপক্স নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাটি। সে সময় এই রোগের প্রাদুর্ভাবকে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ বলে চিহ্নিত করা হয়। তারপর থেকে এই রোগে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যায়।
ডব্লিউএইচও প্রধান সম্প্রতি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কোভিড-১৯ এর মতো এর অর্থ এই নয় যে কাজ শেষ হয়ে গেছে। এমপক্স এবং কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা শেষ হয়ে গেলেও উভয়ের জন্যই সংক্রমণের পুনরুত্থান দেখা দেওয়ার হুমকি রয়েছে। উভয় ভাইরাসই সঞ্চালিত হতে থাকে এবং সংক্রমিতদের মৃত্যু ঘটাতে থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ি, বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাবের সময় ১১১টি দেশ থেকে ৮৭ হাজারেরও বেশি মানুষের এ রোগে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে ১৪০ জন মারা যান।
উল্লেখ্য, গত বছর থেকে মাক্সিপক্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অর্থাৎ প্রায় এক বছরের মাথায় এই সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ডব্লিউএইচও।
এনবিএস/ওডে/সি