জাতিসংঘের সতর্কতা উপেক্ষা করে সাত জনের ফাঁসি কার্যকর ইরানে
রাজধানী তেহরানের কারাজ কারাগারে বুধবার (১০ মে) ভোরে ফাঁসি কার্যকরের সময় অভিযুক্তদের আতীয় পরিজনেরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও এর আগে তারা ক্ষমার জন্য আবেদন করেছিল দেশটির সরকারের কাছে। এসময় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের আত্মীয়দের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নিরাপত্তা বাহিনী। এমনকি তাদের কে শেষ দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন পরিবার পরিজনেরা।
বুধবার কারাজের ঘেজাল হেসার কারাগারে ৩ জন এবং রাজাই শাহার কারাগারে ৪ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
রাজাই শাহার কারাগারে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা ছিলেন ধর্ষণ মামলার আসামি। অন্যদিকে ঘেজেল হেসার করাগারে সাজা কার্যকর হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল মাদক পাচারের।
এর আগে সোমবার ধর্মবিরোধীতার (ব্লাসফেমি) অভিযোগে তেহরানের কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল ইরানের বিচার বিভাগ। পশ্চিম এশিয়ার শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে ধর্মবিরোধিতার কারণে কারো মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা ও তা কার্যকরের ঘটনা বেশ বিরল।
পরে সোমবারের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থী সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘণের দায়ে অভিযুক্ত করে সতর্কবার্তা দিয়েছিল জাতিসংঘ। আর সেই সতর্কবার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরও ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল দেশটির বিচারবিভাগ।
এদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে গত ১২ দিনে ৬৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরেরে বিষয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে সরকারের বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে ইব্রাহিম রাইসির আমলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল । অসলো ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আইএইচআরএনজিও’র বরাত দিয়ে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটিতে ২০২১ সালে ২৯০ জনের ফাঁসি কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এক প্রতিবেদনে জানায়, রাইসির আমলে ২০২০ সালে ১৬৭ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। আর ২০২২ সালে দেশটিতে ৫৮২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।
এদিকে সরকার বিরোধী এক বিক্ষোভের সময় দেশটির রাজনৈতিক ব্যক্তি মাজিদ কাজেমির পৃষ্ঠপোষক অস্ট্রেলিয়ান সিনেটর জর্ডন স্টিলসহ আরো চারজনকে ইরানের আইআরজিসি’র তিনজন নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর এ বিষয়ে এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অভিযুক্তদের সাজা রহিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের শীর্ষ নির্বাহী ভলকের টার্ক মঙ্গলবার এক বার্তায় বলেন, চলতি বছর প্রতি সপ্তাহে ১০ জন করে আসামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়ে থাকে দেশটিতে।
এনবিএস/ওডে/সি