ঘূর্ণিঝড় মোকার আঘাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিহত ৬, আহত ৭০০
শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোকার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য। এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। বাড়তে পারে প্রাণহানি। সোমবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত সবশেষ বুলেটিন অনুসারে, বাতাসের তীব্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেলি-কমিউনিকেশন টাওয়ার, উপড়ে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা। তাছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোতে হয়েছে আকস্মিক বন্যা। অঞ্চলটিতে বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ, বন্ধ ইন্টারনেট সেবাও।
এর আগে ২০০৮ সালে ঘূর্ণিঝড় নার্গিসের আঘাতে দেশটিতে নিহত হয়েছিল এক লাখ ৩৫ হাজার মানুষ। ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে ঘূর্ণিঝড় গিরি মিয়ানমারে আঘাত হেনেছিল ২৩০ কিলোমিটার বেগে। সে সময় নিহত হয় ৪৫ জন।
ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকা ৫ ক্যাটেগরির শক্তি নিয়ে ২৫৯ কিলোমিটার বেগে রাখাইন রাজ্যে আঘাত হেনেছে। রোববার সকালেই রাজধানী সিত্তওয়েতে আঘাত হানে মোকা। মিয়ানমারে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে গত এক দশকে এটাই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
সিত্তওয়ের একজন বাসিন্দা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভয়াবহ গতি নিয়ে বৃষ্টিসহ আঘাত করেছে। মনে হচ্ছিল আমার চারপাশ দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে।’মিয়ানমারের প্রত্নতত্ত্ববিভাগ জানিয়েছে, শুধু রাখাইন নয়, আশপাশের চিন রাজ্য এবং মগওয়ে ও সাগায়িং অঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। দি গ্লোবাল এলার্ট এ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন সিস্টেম জানিয়েছে, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রোববার যখন মোকা আঘাত হানে তখন রাজধানী সিত্তওয়ে প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছিল। তিন লাখ ১০ হাজার বাসিন্দা আশপাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়।
এনবিএস/ওডে/সি