সেনা সমর্থিত সরকারকে প্রত্যাখান থাই ভোটারদের
দেশটির জাতীয় নির্বাচনে লিবারেল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি (এমএফপি)ও পু থাই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মাইলফলক জয় পেয়েছে। ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা এরইমধ্যে শেষ হয়েছে আর তাতে দল দুটি ভাল অবস্থানে রয়েছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রায়ুথ চানের চেয়ে। ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ৫০০ টি আসনের মধ্যে লিবারেল মুভ ফরোওয়ার্ড পেয়েছে ১৫১ টি আসন অন্যদিকে পিউ থাই পেয়েছে ১৪১ টি আসন।
অন্যদিকে ২০১৪ সালে দেশটির ক্ষমতায় আসা সেনা প্রধান প্রায়ুথ চানের ইউনাইটেড ন্যাশনস পার্টি মাত্র ৩৬ টি আসন পেয়ে পঞ্চম অবস্থানে ও তার সাবেক দল পালাং প্রাচারাথ ৪০ টি আসন নিয়ে রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে।
এদিকে মোট প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারের হিসেবে এমএফপি ৩৯টি আসনে ও পিউ থাই ২৯ টি আসনে জয় পেয়েছে। এমএফপি ও পিউ থাই দলই প্রত্যক্ষভোটে ১১২টি আসনে জয়লাভ করেছে।
দলদুটো জোটবদ্ধ ভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে বলে এবারে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশটির জনগণ কোনোভাবেই সেনা শাসিত শাসন ব্যবস্থা যে চায় না সেটি এই ফলের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হলো।
রোববারের নির্বাচনটি পিউ থাইয়ের সিনাওয়াত্রা পরিবারের জন্য সম্মানের লড়াই ছিল। যা কিনা গত দুই দশক ধরে চলে আসছে। কিন্ত লিবারেল মুভ ফরোয়ার্ডের এই বিজয় দেশটির তরুণ ভোটারদের মত প্রকাশের ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে এমএফপি’র প্রধান পিটা লিমজারোয়েনরাত (৪২) এই বিজয়কে সেনসেশনাল বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই সুরকার সম্পূর্নরূপে জান্তা সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের সরকার হবে।
তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ২৫০ সিনেট সদস্যের ভোট দরকার হবে। আর এসব সদস্যগণ সেনা সমর্থিত প্রায়ুথ চানের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত। সেদিক থেকে কতটা সফল হতে পারবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলটি সে বিষয়ে শংকা রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এর আগে সোমবার এক জরিপে ৫০০ টি আসনের মধ্যে এলএমএফপি ও পু থাই পার্টি মিলে ২৮৬ টি আসনে জয় পেতে পারে বলে প্রকাশ হয়েছিল। এদিকে সরকার গঠনে দু দলকেই ছোট দলগুলোর সমর্থনেরও প্রয়োজন রয়েছে।
নির্বাচনে জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটেছে বলে ৬০ বছর বয়ষ্কা এক নাগরিক মল্লিকা শ্রীবুনরিং বলেন, আমি এ বিজয়ে খুবই আনন্দিত। দেশ সার্বিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশায় আমি ভোট দিতে এসেছিলাম।
এমএফপি প্রধান পিটা লিমজারোয়েনরাত তার দলের নির্বাচনী সদর দপ্তরে পৌঁছে জয়ের জন্য কর্মীদের প্রতি অভিবাদন জানিয়েছেন। দেশটির থাম্মাসাত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী বলেছেন, নির্বাচনে ফলটি দেশের তরুণ প্রজন্মের ভাবনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নির্বাচনের ফল নিয়ে এমএফপির সমর্থকেরা এ বিজয়কে পরিবর্তনের যুগ বলে অভিহিত করেন।
এনবিএস/ওডে/সি