প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে যুক্তরাষ্ট্র-পাপুয়া নিউ গিনির প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
সিএনএন’এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এটি একটি পদক্ষেপ যা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং পাপুয়া নিউ গিনির (পিএনজি) প্রধানমন্ত্রী জেমস মারাপে সোমবার রাজধানী পোর্ট মোরেসবিতে এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে নতুন এ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও পাপুয়া নিউ গিনির মধ্যে সামরিক এবং অন্যান্য সুবিধাগুলিতে মার্কিন সহযোগিতা প্রসারিত করবে। এ চুক্তিকে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে ওয়াশিংটনের সুরক্ষা সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এ চুক্তির বিরুদ্ধে সোমবার সকালে পাপুয়া নিউ গিনি (পিএনজি) জুড়ে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় ওয়েপিও মিডিয়া এজেন্সি জানিয়েছে, পাপুয়া নিউ গিনি বিশ্ববিদ্যালয়, গোরোকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পিএনজি ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা সকালে বিক্ষোভ করেছে। চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ না করে তা স্বাক্ষরের প্রতিবাদ জানায় বিক্ষোভকারীরা। তারা প্রতিরক্ষা চুক্তির পরিবর্তে উপকারী অর্থনৈতিক চুক্তি প্রয়োজন বলে জানান।
প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলটি - অল্প জনবহুল দ্বীপ ও দ্বীপপুঞ্জের দেশ এবং অঞ্চলগুলির পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দেশের অবস্থার রয়েছে যা কৌশলগত তাৎপর্যকে ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিদ্ধান্তমূলক যুদ্ধের স্থান ছিল।
এই অঞ্চলটি ওয়াশিংটনের জন্য নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে কারণ চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক টানাপড়েনের মধ্যে দেশটির নৌ সক্ষমতাকে দ্রুত প্রসারিত করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। দৃঢ়চেতা চীনের সাথে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র তার সম্পর্ক এবং উপস্থিতি জোরদার করতে চায়।
গত বছর বেইজিং সলোমন দ্বীপপুঞ্জের সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করার পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের দেশগুলির সাথে একটি ব্যাপক, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা যোগাযোগের জন্য সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত সপ্তাহে পোর্ট মোরসবি এবং অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে সফর স্থগিত করার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন পাপুয়া নিউ গিনি সফরে আসেন।
শনিবার পাপুয়া নিউ গিনি এক বিবৃতিতে বলে যে, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্বেগের সময়ে জাতীয় প্রতিরক্ষার জন্য তার অবকাঠামো এবং ক্ষমতাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, পাপুয়া নিউ গিনির শত্রু নেই তবে এ চুক্তিটি প্রস্তুত থাকতে সহায়তা করবে। এই চুক্তিটি ভূ-রাজনীতি নিয়ে নয় বরং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরির প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয় কারণ ভবিষ্যতে সীমান্ত বিরোধ অনিবার্য।
তবে নতুন চুক্তিটি পাপুয়া নিউ গিনিতে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে - এতে সরকারের পক্ষ থেকে যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চুক্তির ফাঁস হওয়া খসড়াগুলি অনলাইনে প্রচারিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তিটির জন্য সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এবং এটি বিচারিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
পাপুয়া নিউ গিনির লোভি ইনস্টিটিউটের এফডিসি প্যাসিফিক ফেলো মহোলোপা লাভিল বলেন, এ চুক্তি এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠাবে। প্রশান্ত মহাসাগরের বাকি অংশে এ চুক্তি ইঙ্গিত দেয় যে পাপুয়া নিউ গিনি তার বৃহত্তম দেশ পশ্চিম - অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে - তার নিরাপত্তা অংশীদার হিসাবে বেছে নিয়েছে।
এনবিএস/ওডে/সি