মুম্বই হামলার নকশা ছকেছিল, পাকিস্তানের জেলে মারা গেল কুখ্যাত জঙ্গি ভুট্টাভি
আজমল কাসভদের ভোকাল টনিক দিয়ে পাঠিয়েছিল সে। পুরো নকশাটাই ছিল তার। মুম্বই হামলার নকশা আঁকা কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি আবদুল সালাম ভুট্টাভির মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের জেলে। ৭৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার।
ভারতের তরফে ভুট্টাভির মৃত্যুর খবর যাচাই করে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শেইখুরপুরা জেলে বন্দি ছিল ভুট্টাভি। পাকিস্তানই ২০১২ সালে গ্রেফতার করে জেলবন্দি করেছিল তাকে।
২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। তাজ হোটেল-সহ একাধিক জায়গায় তাণ্ডব চালিয়েছিল পাক জঙ্গিরা। জলপথ ব্যবহার করে বাণিজ্যনগরীতে হানা দিয়েছিল লস্কর-ই-তৈবার দলটি। সেনা, দেশের নাগরিক, বিদেশি পর্যটক-সহ মোট ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল জঙ্গিহানায়।
২০১২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় কুখ্যাত হিসাবে ৩০ জনের নাম ছিল। যাদের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসাবে চিহ্নিত করেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ। সেই তালিকায় আট নম্বরে নাম ছিল এই ভুট্টাভির।
লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের ভাইয়ের সূত্রেই জঙ্গিদলে নাম লিখিয়েছিল ভুট্টাভি। তারপর তুখোড় মস্তিষ্কে ক্রমশ লস্করের নেতৃত্বে উঠে আসে লাহোরে জন্মানো ভুট্টাভি।
২৬/১১-র হামলার সময়ে ভুট্টাভি একেবারে ছবি আঁকার মতো করে গোটা পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। কখন কোনও সময়ে কীভাবে মুম্বই শহরে কাসভরা ঢুকবে তার সূচি তৈরি করেছিল ভুট্টাভি। গোটা পথে ভুট্টাভির বক্তৃতা শুনতে শুনতে এসেছিল তারা। এমনই ছিল সেই বক্তৃতা যাতে নাকি আত্মবলিদানে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হয়েছিল কাসভরা।
পরে লস্করের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ভুট্টাভির। একটা সময়ে হাফিজ সইদের ভয়ে নিজেও কুঁকড়ে থাকত সে। তবে জেলে যাওয়ার পর মার্কাজ নামে একটি পৃথক জঙ্গিদল গড়েছিল এই ভুট্টাভি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এই মার্কাজই মুলতানে একটি মসজিদ ও স্কুল উড়িয়ে দিয়েছিল। সোমবার সেই হাইপ্রোফাইল জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের জেলে।সূত্র: এশিয়া নেট নিউজ বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি