সিকিমে ভূমিধসে আটকে পড়া বাংলাদেশীসহ বেশিরভাগ পর্যটকই উদ্ধার

নর্থ সিকিমে ভূমিধসে আটকে পড়া বাংলাদেশীসহ কয়েক হাজার পর্যটকের বেশিরভাগকেই উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও বেশ কিছু এখনো আটকে রয়েছেন। তাদের উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। এদিকে, উত্তর সিকিমের ডিস্ট্রিক কালেক্টর হেম কুমার ছেত্রি রোববার (১৮ জুন) জানিয়েছেন, নতুন করে ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত কাউকে প্রাকৃতিক লীলাভূমি নর্থ সিকিম ভ্রমণের পারমিট প্রদান করা হবে না।

লাগাতার বর্ষণে ধসে বিদ্ধস্ত নর্থ সিকিমের লাচেন, লাচুং, ইয়ুমথাংয়ে আটকে পড়া পর্যটকদের ধাপে ধাপে ফেরানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সিকিম প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিং লামার নির্দেশে প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভারতীয় বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন এবং সেনাবাহিনীর সৈন্যরা উদ্ধার কাজে নামে। নর্থ সিকিমের পাশাপাশি ছাঙ্গু লেকেও পর্যটকদের ভ্রমণের পারমিট দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

নর্থ সিকিমে বেড়াতে গিয়ে আটকে পড়েন প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক পর্যটক। রাস্তার ওপর দিয়ে বইতে থাকে পানি। লাচুং, লাচেন, ইয়ুমথাংয়ের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল আশেপাশের সব এলাকার। ভারী বৃষ্টির জেরে পেগংয়ের কাছে ধস নামে। দসিকিম জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এসবের ফলস্বরূপ, নর্থ সিকিমের চুংথাং-এর কাছে ভূমিধস এবং একটি সেতু ভেসে যাওয়ার কারণে পর্যটকরা আটকা পড়েন। সৈন্যরা পর্যটকদের সুবিধার জন্য নদী পার হতে সাহায্য এবং গরম খাবার, তাঁবু ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘১৫ জুন রাতের পর থেকে ১৬ জুন গোটা দিনে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে, নর্থ সিকিমের বেশ কয়েকটি জায়গায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।’

সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত লাচেন এবং লাচুং এলাকার বিভিন্ন হোটেলে আটকে পড়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পর্যটক। তাদের মধ্যে ৩৬ জন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন। আর ওই বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ২৩ জন বাংলাদেশের, ১০ জন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ৩ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক।

কর্মকর্তারা বলছেন, নর্থ সিকিমের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪৫টি চার চাকার গাড়ি এবং ১১টি মোটরবাইকও আটকে পড়ে। আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করতে ১৯টি বাস এবং প্রায় ৭০টি ছোট ছোট গাড়ি পাঠানো হয়। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

 এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads